বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১১১ দিন পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) সময়সূচি প্রকাশ করতে পারেনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কবে ভাইভা হবে, কবে চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে— এ বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি বা রোডম্যাপ জানায়নি সংস্থাটি।
গত ২২ এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ওই পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ১৪৬ জন অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। ফল প্রকাশের সময় এনটিআরসিএ জানিয়েছিল, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। এরপর কেটে গেছে তিন মাসের বেশি সময়। আজ ১১ আগস্ট পর্যন্ত সেই ‘পরবর্তী সময়’ আর আসেনি।
ফলে যে নিয়োগব্যবস্থাকে দীর্ঘদিনের কমিটি-নির্ভর পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বাছাইয়ের বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াই এখন লিখিত পরীক্ষার পর এসে থমকে রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মূলত, দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বা গভর্নিং বডির ভূমিকা ছিল। প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ এসব পদে নিয়োগে স্থানীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন ও পছন্দের প্রার্থী নিয়োগের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে কেন্দ্রীয় ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।
অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করছে এনটিআরসিএ। নিবন্ধন পরীক্ষা, গণবিজ্ঞপ্তি ও মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা চালুর পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগেও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ পেলেও তাদের প্রশাসনিক প্রধান স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার যে দ্বৈত কাঠামো ছিল, সেটি পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে। ভবিষ্যতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারসহ এসব পদে নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এরপর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট পদে আবেদনের জন্য তখন ন্যূনতম ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় পরিবর্তন আসে। গত ১০ মার্চের সংশোধনের পর স্কুল ও কলেজের শীর্ষ পদ অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়।
নতুন শর্তের কারণে আগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা অনেক প্রার্থী অযোগ্য হয়ে পড়েন। ফলে জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিআরসিএ। পরে ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ হাজার ৯৫১। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার ৯০৮টি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১১২টি পদ ছিল।
আবেদন প্রক্রিয়া শেষে মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৭ হাজার ৩৫১ জন এবং নারী ৫ হাজার ৭১৮ জন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার নয়টি কেন্দ্রে চারটি গ্রুপে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক’ গ্রুপের পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে ১০টা, ‘খ’ গ্রুপের পরীক্ষা বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট, ‘গ’ গ্রুপের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা এবং ‘ঘ’ গ্রুপের পরীক্ষা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নেওয়া হয়।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এনটিআরসিএ কার্যালয়ে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছিল। বড় পরিসরের এই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
এর মাত্র চার দিন পর ২২ এপ্রিল এমসিকিউ ফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৮ হাজার ১৪৬ জনের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। ফল প্রকাশের সময় এনটিআরসিএ জানিয়েছিল, পদভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে এবং তাদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হবে।
কিন্তু ফল প্রকাশের পর ১১১ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিয়োগের বর্তমান স্থবিরতার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা কবে হবে?
এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফল প্রকাশের পর পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির কথা জানা গেলেও কবে থেকে ভাইভা শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা আসেনি।
বিষয়টি নিয়ে এনটিআরসিএর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টিও সামনে আনেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, পরীক্ষায় ত্রুটির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের ত্রুটি প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে কী ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগের ভিত্তি কী, তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কী পেয়েছে এবং তদন্ত শেষ করার সম্ভাব্য সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে একদিকে ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী ভাইভার অপেক্ষায় রয়েছেন, অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তের কারণে নিয়োগের পরবর্তী ধাপ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে রাজি নন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করতে রাজি হন। তাদের কেউ কেউ জানান, নিয়োগের পরবর্তী ধাপ এখনো এনটিআরসিএর হাতে থাকায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলে ভবিষ্যতে মৌখিক পরীক্ষা বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। ফলে ক্ষোভ থাকলেও অনেকে সরাসরি কথা বলতে চাইছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়মনসিংহ বিভাগের একজন উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথম বিজ্ঞপ্তি বাতিল হওয়ার পর নতুন করে আবেদন, নতুন যোগ্যতার শর্ত এবং এরপর লিখিত পরীক্ষা আর সবশেষে ফল প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত পরবর্তী ধাপ শুরু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একটি ধাপ শেষ হওয়ার পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম এবার দ্রুত ভাইভা হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর এত দিন চলে গেলেও কোনো সময়সূচি নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অপেক্ষা করছি কিন্তু কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, সেটিও জানি না। অন্তত তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে প্রার্থীদের জানানো দরকার।
ঢাকা বিভাগের আরেক উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা শেষে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ার সুযোগকে অনেকেই ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখেছি। সে কারণে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অনেকে বর্তমান কর্মস্থল ও পারিবারিক বিষয় নিয়েও নানা পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এখন ভাইভার কোনো খবর না থাকায় সেই পরিকল্পনাগুলোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা শুধু জানতে চাই, প্রক্রিয়াটি কোথায় আছে। ভাইভা এখনই সম্ভব না হলে সেটিও জানানো হোক। একটি সম্ভাব্য সময়সীমা থাকলে অন্তত আমরা নিজেদের পরিকল্পনা করতে পারতাম।
ঢাকার বাইরে থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আরেক প্রার্থী বলেন, প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন। কারণ, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বা তদবিরের অভিযোগের যে সংস্কৃতি ছিল, কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে সেটি কমবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার পর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অগ্রগতি না থাকায় সেই প্রত্যাশার জায়গায় এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও যদি পরবর্তী ধাপের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে প্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হবে।
এদিকে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের শুরুতেই এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে দ্রুত পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে দ্রুত নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। তিনি জুনের মধ্যেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন।
তখন তিনি আরও বলেছিলেন, প্রতি পদের বিপরীতে অতিরিক্ত প্যানেল না রেখে শূন্য পদের সমসংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হবে। অর্থাৎ ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে সমসংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এতে নিয়োগের পর অনিশ্চয়তা কমবে বলে জানিয়েছিল এনটিআরসিএ।
কিন্তু জুন পেরিয়ে জুলাইও শেষ হয়েছে। এখন আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। অথচ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষাই শুরু হয়নি। ফলে জুনের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের বাইরে চলে গেছে। নতুন কোনো সময়সীমাও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের পাশাপাশি বছরে দুইবার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল এনটিআরসিএ। গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়োগ চক্র সম্পন্ন করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলমান অষ্টম নিয়োগ কার্যক্রম জুনের মধ্যে শেষ করে পরবর্তী নিয়োগ চক্র শুরু করার কথা ছিল। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বছরে দুটি সাইকেল চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত ৯ আগস্ট (রোববার) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত শুরু করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী এনটিআরসিএ কার্যক্রম গ্রহণ করছে। তবে এখনো মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের মধ্যে এরকম কোনো টাইমলাইন আমরা ফেস করি নাই। এটা তো আমার জানা নাই।’
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সচিব বলেন, ‘আমরা কাজ করতেছি। সময় হলে জানবেন।’
তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি।
আরএইচটি/এসএম
