বিজ্ঞাপন

৯ সেপ্টেম্বর শুরু ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ ফুটবল, সূচি প্রকাশ

৯ সেপ্টেম্বর শুরু ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ ফুটবল, সূচি প্রকাশ

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’। ওই দিন চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশব্যাপী স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার সংশোধিত সময়সূচি, নীতিমালা ও নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

গত ১০ আগস্ট মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পৃথক আদেশে প্রতিযোগিতার সংশোধিত সূচি ও নীতিমালা প্রকাশ করে।

সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দল গঠন করে প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে। পরে তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের (স্কুল বা সমমান) উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। এরপর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা হবে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের (কলেজ বা সমমান) উপজেলা পর্যায়ের খেলা হবে ১ থেকে ১০ অক্টোবর। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলবে ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর। এ পর্যায়েও শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় এবং মাউশির তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হবে। এতে চারটি বিভাগে খেলা হবে—মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, ফুটবলের নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলা এবং তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতাটি চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে। উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং যাতায়াত সহজ করতে চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ— এই সাতটি শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দল জাতীয় পর্যায়ে খেলবে। কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চল যৌথভাবে বাছাই করে আরও একটি দল জাতীয় পর্যায়ে পাঠাবে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।

জাতীয় পর্যায়ে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩২টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি দল চূড়ান্ত শিরোপার জন্য লড়বে।

খেলোয়াড়দের বয়স ও যোগ্যতা

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের তারিখ ধরা হবে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।

প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক—ম্যানেজার ও কোচ—থাকবেন। অর্থাৎ প্রতিটি দলের মোট প্রতিনিধি থাকবেন ১৮ জন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

খেলাগুলো নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি ম্যাচের নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

অনিয়ম করলে হবে কঠোর শাস্তি

প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কোনো দল পাতানো খেলায় জড়িত হলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

এছাড়া রেফারি বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও আকর্ষণীয় নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আরএইচটি/এমএন