বিজ্ঞাপন

মাদ্রাসার ক্যান্টিন ও আশপাশের দোকানে ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মাদ্রাসার ক্যান্টিন ও আশপাশের দোকানে ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মাদ্রাসার ক্যান্টিন ও আশপাশের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক সই করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পাওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা সব ধরনের খাদ্য ও পানীয় নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। মাদ্রাসার অভ্যন্তরের ক্যান্টিন ও অস্থায়ী খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করা যাবে না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের কোনো ফিডিং কর্মসূচি বা খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হলে তার খাদ্যের গুণগত মান, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে বৈধ উৎস থেকে সংগ্রহ, ক্যাশ মেমো বা চালান সংরক্ষণ, মেয়াদ ও পণ্যের লেবেল যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসার রান্নাঘর, ডাইনিং ও পানীয় জলের উৎস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য এবং ভেজাল খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তদারকি জোরদারে প্রতিটি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নেতৃত্বে অন্তত পাঁচ সদস্যের ‘নিরাপদ খাদ্য তদারকি কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে মাদ্রাসার খাদ্য ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিদর্শন করতে হবে।

মাদ্রাসার আশপাশের দোকানেও যাতে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল বা ক্ষতিকর খাবার বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো দোকানে অনিরাপদ খাবার বিক্রির বিষয়টি নজরে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় খাদ্যে ভেজাল বা অন্য কোনো অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী খাদ্য গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীর অভিভাবক, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে জানাতে হবে।

এছাড়া, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন এবং নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক পোস্টার ও ব্যানার মাদ্রাসার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস ও খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও বলা হয়েছে।

আরএইচটি/জেআই