বিজ্ঞাপন

জালিয়াতির অভিযোগে দুই মাদ্রাসা সুপারের বেতন বন্ধের উদ্যোগ

জালিয়াতির অভিযোগে দুই মাদ্রাসা সুপারের বেতন বন্ধের উদ্যোগ

জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির চেষ্টা এবং ভুয়া তথ্য ও স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুই মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা পৃথক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  

অভিযুক্তরা হলেন, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কুটিরগ্রাম এম.এইচ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজুর রহমান খন্দকার (ইনডেক্স নম্বর - R387187) এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাজিমুল আলম (ইনডেক্স নম্বর - R388825)।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কুটিরগ্রাম এম.এইচ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজুর রহমান খন্দকার এর আগে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি অধিদপ্তরের নজরে এলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ওই আবেদন বাতিল করা হয়।

এরপরও চলতি আগস্ট মাসে মীম আক্তার নামের আরেকজনের এমপিওভুক্তির জন্য পুনরায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মহাপরিচালকের প্রতিনিধির সই ও সিল জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ওই আবেদন করা হয়। এ ঘটনায় মীম আক্তারের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

একইসঙ্গে সুপার মাহফুজুর রহমান খন্দকারের বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে তার সন্তোষজনক লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব অধিদপ্তরে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাজিমুল আলমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সই জাল করে তিন শিক্ষকের উচ্চতর স্কেল বা বিএড স্কেলের জন্য মেমিস সিস্টেমে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক হিসেবে মাদ্রাসাটির সহকারী মৌলভী মো. সাইদুর ইসলাম, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মো. মুসা এবং সহকারী শিক্ষক মো. মমতাজ পারবিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সই জাল করে আবেদন করার অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ জন্য ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাজিমুল আলমকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে অধিদপ্তরে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ