বিজ্ঞাপন

সুমন সেনগুপ্ত

‘বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোই হতে পারে শিশুদের শেখানোর বড় উপকরণ’

‘বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোই হতে পারে শিশুদের শেখানোর বড় উপকরণ’

বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোকে আরও পরিমার্জন ও উন্নত করে শিশুদের শেখানোর কার্যকর উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত। 

তিনি বলেন, খেলায় খেলায় শিশুদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য খেলাধুলাভিত্তিক শিখনের ক্ষেত্রে অন্য দেশের দিকে না তাকিয়ে দেশের স্থানীয় খেলাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্য পুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ভবিষ্যতে শিশুদের কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, তা এখনই পুরোপুরি বলা সম্ভব নয়। তবে তাদের মধ্যে কিছু মৌলিক বা ‘মেটা স্কিল’ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক বুদ্ধিমত্তা এর মধ্যে অন্যতম। খেলাধুলার মাধ্যমে এসব দক্ষতা সহজে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় খেলাগুলোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলাভিত্তিক শিখনের জন্য অন্য কোনো দেশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশেই অনেক স্থানীয় খেলা রয়েছে, যেগুলোকে আরও পরিমার্জন ও উন্নত করে শিশুদের শেখার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে শেখার পরিবেশ আরও আনন্দময় হবে।

কর্মশালায় প্রকাশিত তিনটি রিসোর্স বইয়ের বিষয়ে সুমন সেনগুপ্ত বলেন, বইগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। তাই শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে কোন বিষয়গুলো কার্যকর, কোনগুলো কার্যকর নয় এবং কোন বিষয়গুলো শিশুদের জন্য আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করা যায়, সে বিষয়ে মতামত দিতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তাদের মতামত এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষ পর্যন্ত এসব রিসোর্স মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিশুদের শেখানোর পাশাপাশি তারা যেন আনন্দ পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশে বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সুমন সেনগুপ্ত বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ফাউন্ডেশন লার্নিং, প্রাথমিক শিক্ষা, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা হচ্ছে। ‘খেলায় খেলায় শিখি’ উদ্যোগটি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য একটি বড় সুযোগ।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা স্থানীয় খেলাগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে যুক্ত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই এ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, স্থানীয় খেলাগুলোর মধ্যে কোনগুলো শিশুদের শেখার সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে যুক্ত করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে। পড়তে, বুঝতে ও লিখতে পারা, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত আসা ও থাকা এবং পরবর্তী স্তরের শিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে খেলাগুলো কীভাবে সহায়ক হতে পারে, তা বিবেচনায় নিতে হবে।

শাহীনা ফেরদৌসী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। খেলায় খেলায় শেখার ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ শিশুদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে খেলার মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, সামাজিক দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ, ভাগাভাগি করার সক্ষমতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আরএইচটি/আরএফ

বিজ্ঞাপন