বিজ্ঞাপন

আবেদনের ৭ দিনেই মিলছে সেবা

২ মাসে ২০ হাজার নাম-বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

২ মাসে ২০ হাজার নাম-বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন অপেক্ষার ভোগান্তি কমেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। নতুন সাধারণ আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

এর অংশ হিসেবে গত দুই মাসে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০টি নাম সংশোধন ও ৪ হাজার ৩৯৯টি বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করেছে বোর্ড। সব মিলিয়ে এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজারের বেশি আবেদন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পুরোনো প্রায় ৪ হাজার ২৭৮টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদনও দ্রুত শেষ করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন আবেদনগুলো জমে গিয়ে যেন ফের দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, নাম ও বয়স সংশোধন শিক্ষা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর একটি। শিক্ষার্থীর সনদ, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, নম্বরপত্রসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত নথিতে তথ্যের অসংগতি থাকলে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা অন্যান্য কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সংশোধন সেবা পাওয়া আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জমে থাকায় এক সময় এ সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হতো অনেককে। আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি অগ্রগতি জানতে বারবার বোর্ডে আসতে হতো। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানির অভিযোগও ছিল।

আবার এই দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও ছিল। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরও কেউ কেউ দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর চেষ্টা করতেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আনার পাশাপাশি নতুন আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই করায় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে নতুন সাধারণ আবেদনগুলোর অধিকাংশই সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার বোর্ডে আসার প্রয়োজন কমেছে।

বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার ঢাকা পোস্টকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমার নজরে আসে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমি একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দ্রুত নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছি। একই সঙ্গে নতুন সাধারণ আবেদনগুলো যাতে দীর্ঘদিন পড়ে না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সচিব আরও বলেন, বাকি পুরোনো আবেদনগুলোও স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি নতুন আবেদনের ক্ষেত্রেও দ্রুত সেবা দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আবেদন দীর্ঘদিন জমে না থাকে।

আরএইচটি/এসএএস

বিজ্ঞাপন