বিজ্ঞাপন

নারী এমপির ডিও লেটারে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ থেকে শিক্ষককে অব্যাহতি!

নারী এমপির ডিও লেটারে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ থেকে শিক্ষককে অব্যাহতি!

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরে বিয়ে অস্বীকার এবং ওই নারী ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন জয়পুরহাট সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী। 

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত এবং পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে তা আংশিক প্রমাণিত হলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের আধা-সরকারি (ডিও) পত্রে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়। সেই পত্রসহ মামলার সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখা থেকে গত ১৭ আগস্ট এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী জয়পুরহাট সরকারি কলেজে যোগ দেওয়ার আগে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে জেসমিন আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে কাজি ছাড়া শুধু হুজুরের মাধ্যমে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ওই বিয়ে অস্বীকার করেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগকারী জেসমিন আক্তার ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে নৈতিক চরিত্র স্খলনের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। 

নোটিশের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ওই শিক্ষক। এরপর তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ব্যক্তিগত শুনানির তারিখ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭(২)(ঘ) অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে ৬ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক আধা-সরকারি পত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী, তদন্ত প্রতিবেদন, সংসদ সদস্যের আধা-সরকারি পত্র এবং মামলার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করে তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাকে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কলেজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ