এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগসহ নৈতিক চরিত্র স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া জয়পুরহাট সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর অব্যাহতির আদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তার অব্যাহতির আদেশ বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বা হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।
এছাড়া তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য একজন নারী সংসদ সদস্যের দেওয়া আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির বিষয়েও আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট নথি তলব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজই তার বিভাগীয় শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশটি বাতিল করা হবে। এর ফলে তিনি আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন। তার বিরুদ্ধে যথারীতি বিভাগীয় মামলা চলমান থাকবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী জয়পুরহাট সরকারি কলেজে যোগ দেওয়ার আগে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত থাকার সময় জেসমিন আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরে বিয়ে অস্বীকার এবং ওই নারী ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৈতিক চরিত্র স্খলনের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ওই শিক্ষক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়। শুনানিতে দেওয়া তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ৬ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনেও ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক আধা-সরকারি (ডিও) চিঠিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। পরে বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী, তদন্ত প্রতিবেদন, সংসদ সদস্যের ওই আধা-সরকারি পত্রসহ মামলার সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরে গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করে তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাকে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হাজী আবদুল বাতেন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। পরে সেখান থেকে তিনি জয়পুরহাট সরকারি কলেজে বদলি হয়ে আসেন।
আরএইচটি/এমএসএ
