বিজ্ঞাপন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হীনম্মন্যতায় ভোগার কারণ নেই

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হীনম্মন্যতায় ভোগার কারণ নেই

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের নিয়ে হীনম্মন্যতায় না ভোগার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক, বিমা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং ক্লাব (টিসিডিসি) আয়োজিত ‘১ম জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। উৎসবে কলেজ পর্যায়ের ৩২টি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৩২টি দলসহ মোট ৬৪টি দল অংশ নেয়।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সিইও যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হতে পারেন, প্রধান বিচারপতি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হতে পারেন, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হতে পারেন— তাহলে আমি কেন নয়? প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে এই প্রত্যয় থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাড়া দেশের ব্যাংক, বিমা ও ইনস্যুরেন্স খাত একদিনও চলতে পারে না। দেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

উপাচার্য বলেন, দেশের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরি বেসরকারি খাতে। আর এই খাতের ৮২ থেকে ৮৩ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের নিয়ে ছোট ভাবার কোনো কারণ নেই। নিজেদের যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব জরুরি। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম কারণ সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ঘাটতি। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পরও কাঙ্ক্ষিত সাংস্কৃতিক বিপ্লব হয়নি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও তা হয়নি। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমাজে কনফ্লিক্ট বা মতপার্থক্য থাকবেই। তবে সেই কনফ্লিক্ট হতে হবে গঠনমূলক। কে ভালো গবেষণা করবে, কার গবেষণাপত্র ভালো হবে কিংবা কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো বিতর্ক করতে পারবে এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা যখন কলেজে প্রবেশ করবেন, তখন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি যাতে ভালোভাবে পরিচালিত হয়, সেভাবেই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর শিক্ষার্থীরা কাজ করবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। এটাই শিক্ষাঙ্গনের আদর্শ পরিবেশ হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং মো. ফখরুল ইসলাম ভূঁইয়া রবিন।

আরএইচটি/এসএম