বিজ্ঞাপন

কলেরা টিকার দুই ডোজ দিতে ৫ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির নির্দেশ

কলেরা টিকার দুই ডোজ দিতে ৫ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির নির্দেশ

দেশে কলেরা রোগের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুই দফায় মুখে খাওয়ার প্রিভেন্টিভ কলেরা ভ্যাকসিন দিতে ৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এরইমধ্যে গত ২২ আগস্ট প্রথম ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা রয়েছে।

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাতটি থানা এবং মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলা এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীকে এ টিকা দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সই করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গেন্ডারিয়া, কদমতলী, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, খিলক্ষেত, তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, তাড়াইল ও হোসেনপুর উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে।

মাউশি বলেছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রধান শিক্ষকদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের জন্য জেলা শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফেসবুক পেজে মাউশির চিঠি এবং এর সঙ্গে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রকাশ করতে হবে।

সহকারী উপজেলা ও সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ ক্লাস্টারের বিদ্যালয় ও কলেজে টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারক করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শন করে কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে শিক্ষকদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষকরা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন, টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা, টিকাদান কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা এবং অভিভাবকসহ এলাকার মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বও শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, টিকা পাওয়ার জন্য জন্মসনদ নম্বর ব্যবহার করে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। যেসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন করতে পারছে না, তাদের নিবন্ধনে সহায়তা করবেন বিদ্যালয় ও কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষকরা।

এ ছাড়া টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/জেডএস

বিজ্ঞাপন