বিজ্ঞাপন

একাদশে ভর্তিতে মাইগ্রেশন থাকছে, নীতিমালায় নেই তেমন পরিবর্তন

একাদশে ভর্তিতে মাইগ্রেশন থাকছে, নীতিমালায় নেই তেমন পরিবর্তন

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে গত বছরের নীতিমালাই বহাল থাকছে। অর্থাৎ আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ভর্তি কার্যক্রমে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সংক্রান্ত ফি ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। একইসঙ্গে ভর্তি কার্যক্রমে মাইগ্রেশন ব্যবস্থাও থাকছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। গত বছর যে নীতিমালা ছিল, এবারও মূলত সেটিই থাকছে। বড় কোনো পরিবর্তন নেই। শুধু বিএনসিসি ফি ৬ টাকার জায়গায় ১০ টাকা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীরা ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এরপর ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর নিশ্চয়ন ও আসন বণ্টনের কার্যক্রম হবে। ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি কার্যক্রমে মাইগ্রেশন রাখার বিষয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘মাইগ্রেশন থাকছে। তবে এবার শুরুতেই আমরা সব শিক্ষার্থীকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসছি। ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবাই আবেদন করতে পারবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবে।’

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী কোনো কারণে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে না পারলেও ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফলে প্রথম ধাপেই ভর্তির নির্বাচন প্রায় ৯০ শতাংশ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তির পর মাইগ্রেশনের জন্য আবেদনের সুযোগ রাখা হবে।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানান, এবারও এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রেখে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। পরে শিক্ষার্থীর ফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার মোট আসনের অর্ধেকের বেশি খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসনসংখ্যা বেশি হলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত।

আরএইচটি/জেডএস

বিজ্ঞাপন