নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে এমপিওভুক্ত করার দাবি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেছেন শিক্ষক-কর্মচারীদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে পুলিশের সহায়তায় মন্ত্রণালয়ে যান তারা। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ নন-এমপিও (বেতন-বিহীন) শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোসা. শামিয়া শিমু পান্না, সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, পটুয়াখালীর বরোদিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ এবং সিলেটের গোলকপুর হাজী আব্দুল হাফিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. কবির উদ্দিন।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল দাবি, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও সচল সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতি থাকলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষক-কর্মচারীদের তৈরি করক স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে অবসর নিয়েছেন। কেউ কেউ বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে তাদের পরিবার-পরিজনও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে নিজেদের জমি-জমা বিক্রি করেছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থ ও মানবিক বিবেচনায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সচল সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করা হলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হবে। প্রয়োজনে শর্ত দিয়ে হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২৩ আগস্ট) সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
ডিএমপির অনুমতিপত্রে নির্ধারিত সময় ও স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন, অনুমোদিত স্থানের বাইরে কর্মসূচি না করা, উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়া এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার মতো বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বছরের পর বছর শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছি। যোগ্য ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের এক দফা দাবি।
এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরএইচটি/এমএসএ
