বিজ্ঞাপন

নতুন নীতিমালা জারি

ইচ্ছা করলেই অংশ নেওয়া যাবে না ‘জুনিয়র বৃত্তি’ পরীক্ষায়, মানতে হবে শর্ত

ইচ্ছা করলেই অংশ নেওয়া যাবে না ‘জুনিয়র বৃত্তি’ পরীক্ষায়, মানতে হবে শর্ত

মেধার মূল্যায়নে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। তবে অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী চাইলেই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সপ্তম শ্রেণির সাময়িক বা বার্ষিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত মেধাক্রমে থাকতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। নীতিমালার আলোকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন ও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক বা সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে এ সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।

কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা ৪০০ নম্বরে

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে মোট পূর্ণমান ৪০০। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর থাকবে।

বাংলা বিষয়ের কোড ১০১। এ বিষয়ের পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা। ইংরেজি বিষয়ের কোড ১০৭ এবং গণিতের কোড ১০৯। এ দুটি বিষয়ের পরীক্ষার সময়ও তিন ঘণ্টা করে। বিজ্ঞান বিষয়ের কোড ১২৭ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের কোড ১৫০।

বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা সমন্বিতভাবে নেওয়া হবে। দুই বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। তাঁদের শ্রুতিলেখক হিসেবে সর্বোচ্চ সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন।

দেওয়া হবে দুই ধরনের বৃত্তি

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি দেওয়া হবে দুই ধরনের (ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি)। উপজেলা ও থানাভিত্তিক এসব বৃত্তি নির্ধারণ করা হবে।

সব ধরনের বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অবশিষ্ট বৃত্তি অন্য পক্ষের যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।

একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সব বিষয়েই নম্বর সমান হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সবাইকে সমানভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ফি ৬০০ টাকা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীকে বোর্ড ফি হিসেবে ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি হিসেবে ২০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ একজন পরীক্ষার্থীর মোট ফি ৬০০ টাকা। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী এ ফি পরিবর্তন করা যেতে পারে।

শিক্ষা বোর্ডগুলো অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও ফি আদায়ের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি উপজেলা সদরে সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে ১৪৪ ধারা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে একাধিক কমিটি কাজ করবে। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা পরিচালনা করবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নীতিমালায়। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএইচটি/বিআরইউ