মেধার মূল্যায়নে আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর থাকবে। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলা বিষয়ের কোড ১০১। এই বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ এবং পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা। ইংরেজি বিষয়ের কোড ১০৭, পূর্ণমান ১০০ এবং সময় তিন ঘণ্টা। গণিতের বিষয় কোড ১০৯, পূর্ণমান ১০০ এবং সময় তিন ঘণ্টা।
বিজ্ঞান বিষয়ের কোড ১২৭ এবং পূর্ণমান ৫০। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের বিষয় কোড ১৫০ এবং পূর্ণমান ৫০। এই দুটি বিষয়ের পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়া হবে। দুই বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় থাকবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় রাখা হয়েছে। এই সুবিধা পেতে জেলা বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। এসব পরীক্ষার্থীর শ্রুতিলেখকের প্রয়োজন হলে সেই শ্রুতিলেখককে সর্বোচ্চ সপ্তম শ্রেণিতে পড়া শিক্ষার্থী হতে হবে।
পরীক্ষায় সবাই অংশ নিতে পারবে না
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে না। সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক ও সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে।
কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও, আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
পরীক্ষায় অংশ নিতে একজন শিক্ষার্থীকে বোর্ড ফি হিসেবে ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি হিসেবে ২০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ মোট ফি ৬০০ টাকা। অনলাইনে ফরম পূরণের সময় বোর্ড ফি পরিশোধ করতে হবে। কেন্দ্র নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবের কাছে কেন্দ্র ফি দিতে হবে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফি পরিবর্তন করা যেতে পারে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকবে কড়াকড়ি
পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। বেঞ্চের সারির মধ্যে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রসচিবের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেট খোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ওএমআর শিটের প্রথম অংশ উত্তরপত্র থেকে আলাদা করে রোল নম্বর অনুযায়ী সাজিয়ে জমা নেওয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা গাফিলতি করলে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম পূরণ
চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা ৩১ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শেষ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও ই-ফরম পূরণ অংশে নির্ধারিত পরিচিতি নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করবে। এরপর সম্ভাব্য তালিকা থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে।
প্রথমে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রিন্ট করে হার্ডকপিতে লাল কালি দিয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পাশে টিক চিহ্ন দিতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠান বা অন্য বোর্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে। এ ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণির ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের বোর্ড, রোল ও নিবন্ধন নম্বর দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য নিজ প্রতিষ্ঠানে দেখা যাবে।
হার্ডকপিতে টিক দেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য কম্পিউটারে দেখা সম্ভাব্য তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। এরপর অস্থায়ী তালিকা প্রিন্ট করে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে এ পর্যায়ে পরীক্ষার্থী নির্বাচন বা নির্বাচন বাতিল করা যাবে।
চূড়ান্ত যাচাই শেষে টাকা জমার চালান প্রিন্ট করতে হবে। চালানে উল্লেখিত টাকা সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবা চালু থাকা শাখায় জমা দিতে হবে। তবে চালান প্রিন্ট করার পর নতুন করে কোনো পরীক্ষার্থী নির্বাচন বা নির্বাচন বাতিল করা যাবে না।
ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষার্থী তালিকা প্রিন্ট করে জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রিন্ট করে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিতে হবে। তালিকার প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বাক্ষর থাকতে হবে। সবশেষে চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে।
এই কাজ শেষ না হলে ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে না এবং পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রও দেওয়া হবে না। পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসহ মুদ্রিত তালিকার একটি কপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফরম পূরণ, ফি জমা ও চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার সব কাজ শেষ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএইচটি/জেআই
