বিজ্ঞাপন

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত, তাদের মডেল অনুসরণ করতে চাই : শিক্ষামন্ত্রী

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত, তাদের মডেল অনুসরণ করতে চাই : শিক্ষামন্ত্রী

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় সরকার এমন মডেল অনুসরণ করতে চায় বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চীন সফরে আমরা দেখেছি, তাদের শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরাও সেই মডেলটি অনুসরণ করতে চাই। চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নতমানের। তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপও দিচ্ছে।’

চীন থেকে বাংলাদেশে আসা ভাষাশিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে তাদের ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল ছিল। এখন এটি আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও চীনের ভিসা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সহজ করা হয়েছে।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। বৈঠকে সফরটিকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হিসেবে জানানো হয়।

সফরকালে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আওতায় দুই দেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি, শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া সফরকালে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। এগুলো হলো —চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার এবং বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ প্লাস স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।

বৈঠকে বলা হয়, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতার সঙ্গে শিল্পের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের আরও কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হয়।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচটি/এমএসএ