মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের পরিবর্তে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজকে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি জানানো হয়।
জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, বাউবির বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
বাউবি জানায়, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া গত ২৮ আগস্ট কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান ও মো. রফিক-উজ-জামানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বাউবি নকল বা পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
উপাচার্য আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএইচটি/আরএফ
