চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালের ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন প্রণয়নের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
সেইসাথে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর লিখিত মতামত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলেও নতুন আইনের খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক ও কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং স্পোর্টস সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
নতুন আইনে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইন, দূরশিক্ষণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স পরিচালনার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল প্রোগ্রাম পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদ ও প্রশাসনিক পরিভাষায় পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। বিদ্যমান আইনের ‘আচার্য’ পদকে ‘চ্যান্সেলর’, ‘উপাচার্য’কে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ এবং ‘উপউপাচার্য’কে ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর’ হিসেবে অভিহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ‘বাছাই কমিটি’র পরিবর্তে ‘নিয়োগ বোর্ড’ শব্দ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদবি ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিভাষাতেও আধুনিকায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্ষদ সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের গঠনেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্পিকার কর্তৃক মনোনীত চাঁদপুর জেলার একটি আসনের সংসদ সদস্য, অর্থ বিভাগ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্মসচিব পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন পূর্ণকালীন সদস্যকে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি), যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ এবং অভিযোগ প্রতিকার সেল গঠনের বিষয়ও আইনে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া আইনে অসত্য তথ্য বা জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সেই ভর্তি বাতিলের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৈতিক স্খলনের দায়ে আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ বা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো দ্বিমত দেখা দিলে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানোর বিধানও রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোর মতামত নেওয়া হবে। পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
আরএইচটি/বিআরইউ
