ভুল ও বিধিবহির্ভূত বেতন কোডে এমপিও সুবিধা নেওয়ায় পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন কোড সংশোধন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভুল কোডে এমপিওভুক্ত থাকার সময় অতিরিক্ত উত্তোলন করা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে পৃথক পাঁচটি নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাগুলোতে সই করেছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার রাজুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মো. মাহমুদুল হাসান শাহিন ২০২২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ভুল করে ১৬তম বেতন কোডে এমপিওভুক্ত হন। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এ পদের জন্য ২০তম কোড প্রযোজ্য। তাই ১৬তম কোড বাতিল করে ২০তম কোড পুনর্বহাল করা হয়েছে। অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থও ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কাঠমা ফয়েজভানী দাখিল মাদ্রাসার এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মকবুলা মারজানার ক্ষেত্রেও বেতন কোড সংশোধন করা হয়েছে। বিএড ডিগ্রি না থাকলেও তিনি ১১তম কোডের পরিবর্তে ১০ম কোডে এমপিও সুবিধা নিচ্ছিলেন। এ কারণে ১০ম কোড বাতিল করে ১১তম কোড পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. সামছুল আলমের ২০১১ সাল থেকে ভুলভাবে ৭ম কোড দেখানো হচ্ছিল। চাকরির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তার প্রাপ্য ৮ম কোড। তাই ৭ম কোড বাতিল করে ৮ম কোড পুনর্বহাল করেছে অধিদপ্তর। অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী ক্বারী মো. আব্দুল গণির ক্ষেত্রেও বেতন কোড সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তার ক্ষেত্রে ১১তম কোড দেখানো হলেও পদ অনুযায়ী প্রাপ্য কোড ১৬তম। ফলে ১১তম কোড বাতিল করে ১৬তম কোড নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রুহল আমিনের বিরুদ্ধে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ৭ম কোডে উচ্চতর স্কেল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মেমিস সফটওয়্যারের তথ্য পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার ৭ম কোড বাতিল করে ৮ম বেতন কোড পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা প্রধানদের এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তোলন করা টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে কোষাগারে জমা দিয়ে অধিদপ্তরকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সরকারি পাওনা আদায় (পিডিআর) আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছে।
আরএইচটি/এসএম
