জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তুলতে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (এসিসিএ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের পাঠ্যক্রম আন্তর্জাতিক পেশাগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ও এসিসিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এ সময় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চেয়ারম্যান এস এম মুজাহিদুল ইসলাম, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. রুহুল কুদ্দুসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার প্রমা তাপশী খানের নেতৃত্বে সংস্থাটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। পরে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিদ্যমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এসিসিএ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ সিলেবাস আধুনিকায়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও এসিসিএ প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির চেয়ারম্যান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এসিসিএর পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য এসিসিএর প্রাসঙ্গিক ডিপ্লোমা এবং সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (ক্যাট) মডিউল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে এসিসিএর ক্যাট মডিউলের মডিউলভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও গ্যাপ অ্যানালাইসিস করা হবে। এ কাজে এসিসিএ কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং শিক্ষায় আন্তর্জাতিক পেশাগত মানদণ্ড এবং চাকরির বাজারের বর্তমান চাহিদা সম্পর্কে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রফেশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে এসিসিএ।
প্রাথমিকভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নির্বাচিত কয়েকটি কলেজে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বাস্তবায়নের কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।
হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের মধ্যে এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে হার্ড ও সফট স্কিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল লিটারেসি এবং অ্যাকাউন্টিং ও বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্প ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য বাড়াতে স্কিল ও এমপ্লয়মেন্ট বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে ডায়ালগ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে দুই পক্ষ। এতে এমপ্লয়ার, শিক্ষাবিদ, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের যুক্ত করার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ব্রিটিশ হাইকমিশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এসিসিএ বাংলাদেশের মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই হয়। সেই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের বৈঠকে কার্যক্রমের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই পক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও মডিউল ম্যাপিংয়ের কাজ করা হবে। এরপর টিচার ট্রেনিং এবং নির্বাচিত কলেজে পাইলট ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকে এগোনো হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
/এমএইচএন/এমএসএ
