চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষভাগে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার আগে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরাম। একইসঙ্গে সরকারি নীতিমালার বাইরে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আইডিয়াল স্কুলের আজীবন দাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু এবং ফোরামের আহ্বায়ক আ স ম আলমগীর।
বিবৃতিতে অভিভাবক ফোরামের নেতারা অভিযোগ করেন, গত তিন থেকে চার বছর ধরে একটি ‘ভর্তি-বাণিজ্য সিন্ডিকেট’ সরকারি নীতিমালায় নির্ধারিত ৫ শতাংশ সহোদর কোটার বাইরে গিয়ে আদালতে রিট করে শিক্ষার্থী ভর্তির আদেশ নিয়ে আসছে। পরে ওই আদেশের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সব সহোদরকে ভর্তি করানো হলে বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যা কমে যায় বা আসন খালি থাকে না। ফলে সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে সহোদর কোটায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগও সংকুচিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাবর্ষের শেষভাগে এবং বার্ষিক পরীক্ষার আগে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বছরের শেষ সময়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রেণির সিলেবাস সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে তাদের শিক্ষাগত ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং শ্রেণিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন অভিভাবক ফোরামের নেতারা।
তারা বলেন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার মান ও সুনাম বজায় রাখতে ভর্তি কার্যক্রম অবশ্যই সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ কারণে চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষভাগে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার আগে, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে বিরত থাকার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি নীতিমালার বাইরে কোনো ধরনের ‘ভর্তি-বাণিজ্য’ যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের হস্তক্ষেপ চেয়েছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরাম।
আরএইচটি/এমএসএ
