বিজ্ঞাপন

মাদরাসার এমপিও যাচাইয়ে জালিয়াতির তথ্য, জবাব তলব

মাদরাসার এমপিও যাচাইয়ে জালিয়াতির তথ্য, জবাব তলব

দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও উচ্চতর স্কেল প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির একাধিক ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল এবং মৃত ব্যক্তির ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

অধিদপ্তরের যাচাইয়ে দেখা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দির নিজবলাইল ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মো. সুমন মিয়ার এমপিওভুক্তির জন্য মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে একটি জাল চিঠি তৈরি করা হয়। পরে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে ফলাফল শিট তৈরি করে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারীর সোনালীপাড়া মীম ছীন বালিকা দাখিল মাদরাসায়। সেখানে অফিস সহকারী পদে মো. মাসুদ রানার এমপিওভুক্তির আবেদনে। সেখানে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ডি. এইচ. ফাযিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী শামছিয়া খাতুনের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে বিএড স্কেল পাওয়ার আবেদন যাচাই করতে গিয়ে তার দাখিল করা বিএড সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

অধিদপ্তরের আলাদা আরেকটি আদেশে সংশ্লিষ্ট সুপার ও অধ্যক্ষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে কেন সাময়িকভাবে এমপিও স্থগিত করা হবে না। এ বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বিষয়টি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। পরে তার এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মস্কিপুর দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. জহরুল ইসলাম ও মো. আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে একাধিক উচ্চতর স্কেল নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অধিদপ্তরের যাচাই অনুযায়ী, নীতিমালা অনুযায়ী চাকরিজীবনে নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও তারা নিয়ম লঙ্ঘন করে বেতন কোড-০৮ গ্রহণ করেছিলেন। পরে তা সংশোধন করে বেতন কোড-০৯ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অনিয়মে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপারকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/বিআরইউ