বিজ্ঞাপন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষক বদলি নিয়ে বিতর্ক নয়, ঐক্য চান নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা

শিক্ষক বদলি নিয়ে বিতর্ক নয়, ঐক্য চান নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বিতর্কের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা।

তারা বলছেন, সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি–সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ২০২৫ ব্যাচের কোনো বিরোধিতা বা মন্তব্য নেই। একই সঙ্গে ব্যাচের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির বিতর্কিত বক্তব্যের দায়ও নেবে না ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের এই ব্যাচ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের আগামী ১ অক্টোবর যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়নের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই ২০২৫ ব্যাচ স্পষ্ট করতে চায়, সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি–সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কোনো বিরোধিতা বা মন্তব্য নেই।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একজন ব্যক্তি ২০২৫ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ২০২৫ ব্যাচের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও কেউ ২০২৫ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যক্তিগত বা বিতর্কিত বক্তব্য দিলে তার দায় ২০২৫ ব্যাচ নেবে না।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের একটি ব্যাচের বক্তব্য কোনো একক ব্যক্তির বক্তব্য নয়। ২০২৫ ব্যাচের সামষ্টিক অবস্থানই তাদের বক্তব্য। তাদের অবস্থান হলো— সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিনিয়র শিক্ষকদের কোনো যৌক্তিক সমস্যা বা উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সংগঠন ও দায়িত্বশীল নেতারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন— এটাই ২০২৫ ব্যাচের প্রত্যাশা। এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে পাশে থাকবেন বলেও জানানো হয়।

পদায়নের আগে বদলি স্থগিতের উদ্যোগ

এদিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(২)(ক) ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রমতে থানাভিত্তিক হবে। তবে গত ২১ জুনের ৩৫০ নম্বর প্রজ্ঞাপনের আলোকে বদলি কার্যক্রম চলমান থাকায় কতিপয় উপজেলা বা থানায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের জন্য সমপরিমাণ পদ শূন্য নেই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আরও বলেছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের আগে বদলি কার্যক্রম চলমান থাকলে তাদের পদায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে সব পর্যায়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

এ অবস্থায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/এসএএস