বিজ্ঞাপন

পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা : সাত মাদ্রাসা শিক্ষককে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি

পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা : সাত মাদ্রাসা শিক্ষককে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে নীলফামারী ও যশোরের বিভিন্ন মাদ্রাসা র কেন্দ্রসচিব, হল সুপার ও কক্ষ প্রত্যবেক্ষকসহ সাত শিক্ষককে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের সই করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বোর্ডের ১২১তম শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

বোর্ডের আদেশ অনুযায়ী, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশোরগঞ্জ কেন্দ্রের (কোড-৩৯৫) কিশোরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ভেন্যুতে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তিন শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন– মাগুরা দোলাপাড়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজার রহমান, উত্তর বাহাগিলি খামাত পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. সাজেদুল হক এবং বাহাগিলি ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মামুনর রশিদ।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের গত ৪ মে তারিখের স্মারকপত্রে দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মনিরামপুর-০২ কেন্দ্রের (কোড-৪৭৩) রাজগঞ্জ সিদ্দিকিয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা ভেন্যুতে গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দাখিলের গণিত পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে চার শিক্ষককে পাঁচ বছরের জন্য পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষক হলেন– রাজগঞ্জ সিদ্দিকিয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাজরাকাটি দারুল উলুম মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার এ এস এম আব্দুল আলীম, কালারহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) মো. আবু দাউদ এবং গোবিন্দপুর তেঘরী আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) মো. আমিনুর রহমান।

যশোরের জেলা প্রশাসকের গত ৭ মে তারিখের স্মারকপত্রে দেওয়া প্রতিবেদনের আলোকে বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর ওই সাত শিক্ষক বোর্ড ও কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত কোনো ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এ সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে জারি করা এ আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আরএইচটি/বিআরইউ