বিজ্ঞাপন

এসএসসি ও সমমান

পুনর্নিরীক্ষণ-পুনর্মূল্যায়নে বদলে গেলো ৫৬ হাজার খাতার নম্বর

পুনর্নিরীক্ষণ-পুনর্মূল্যায়নে বদলে গেলো ৫৬ হাজার খাতার নম্বর

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৫৬ হাজারের বেশি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছে। এতে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে প্রথম দফার মূল্যায়নের সঙ্গে ফলের পার্থক্য ধরা পড়ায় এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে — প্রথমবার পরীক্ষার্থীদের খাতা কীভাবে দেখেছিলেন পরীক্ষকরা?

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর ১৭ আগস্ট রাতে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর এবং মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় উত্তরপত্রের নম্বর ও ফল যাচাইয়ের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও যুক্ত করা হয়েছে।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন শেষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। কোথাও সঠিক উত্তর দেওয়ার পরও নম্বর না পাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে, কোথাও আবার উত্তরপত্রের ভেতরের নম্বর মূল পাতায় সঠিকভাবে ওঠেনি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরকে ভুল ধরে আংশিক নম্বর দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়নের চাপ থাকলেও পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনে অসতর্কতার সুযোগ নেই। কারণ একটি নম্বরের ভুলও একজন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন করতে পারে এবং তার পরবর্তী শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত ফলের পর ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এতে করে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল শুধু কিছু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফল পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং বোর্ডগুলোর তদারকি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বোর্ডে ২১ হাজার খাতার নম্বর পরিবর্তন

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেই সবচেয়ে বেশি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। তারা মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ২১ হাজার ৬৯টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধিত হয়েছে। এতে ৩৩৭ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৬ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন ৯৮ হাজার ৭১০টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ১ হাজার ৪০৩টি উত্তরপত্রের নম্বর বদলেছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১১১ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন ৯১ হাজার ৪৯৪টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৩টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধিত হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৭ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ২৮ হাজার ৮৬২ জন ৭৪ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ১ হাজার ৯৪৪টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৮০ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮২ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ২ হাজার ৯৭৫টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৯০ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ জন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন ৫০ হাজার ২৯৩টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ৩ হাজার ১১৮টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৭৯ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন ৫০ হাজার ৭১৩টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ২ হাজার ৫৮৭টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২১ জন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন ৮৯ হাজার ২৮৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ৫ হাজার ৬৩৬টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৮৬৭ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৫ জন।

ময়মনসিংহে ফেল থেকে পাস ১ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থী

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী ৭১ হাজার ৬৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।

পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৬ হাজার ৫৩৮টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ১ হাজার ১৮০ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।

৯ সাধারণ বোর্ডে বদল ৪৯ হাজারের বেশি খাতার নম্বর

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। শিক্ষার্থীরা মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে।

পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে এসব বোর্ডে মোট ২৫ হাজার ৬২০ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর সংশোধন হয়েছে ৪৯ হাজার ১৪৩টি উত্তরপত্রে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৬৬ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৪০ জন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে ফেল থেকে পাস ৯১৯ জন

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাইরে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফল পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।

পুনর্নিরীক্ষণে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর সংশোধন হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৪টি উত্তরপত্রে। এর ফলে ২৫৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন।

আবার বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ২০ হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৩০৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।

পুনর্নিরীক্ষণে ৬৬৭ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ১ হাজার ১৭২টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ৬৬৪ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন।

সব বোর্ড মিলিয়ে বদলেছে ৫৬ হাজারের বেশি খাতার নম্বর

সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য একত্র করলে দেখা যায়, মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। তারা মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।

সার্বিক পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন শেষে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। আর বোর্ডভিত্তিক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। এর ফলে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।

প্রশ্নের মুখে শিক্ষকদের প্রথম দফার মূল্যায়ন

পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের এই ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষকদের প্রথম দফার মূল্যায়ন নিয়ে। একজন পরীক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রতিটি উত্তর যথাযথভাবে দেখে প্রাপ্য নম্বর দেওয়া এবং সেই নম্বর সঠিকভাবে মূল নম্বরপত্রে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে পাওয়া ফল বলছে, অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়াতেই গুরুতর ভুল হয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণে শুধু নম্বর যোগের ভুল নয়, সঠিক উত্তরে নম্বর না দেওয়া, উত্তরপত্রের ভেতরের প্রাপ্ত নম্বর মূল পাতায় ভুলভাবে তোলা, কোনো উত্তর মূল্যায়নের বাইরে থেকে যাওয়া এবং সঠিক উত্তরকে ভুল ধরে শূন্য দেওয়ার মতো অসংগতিও ধরা পড়েছে। এসব ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর একটি বা একাধিক বিষয়ের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, আবার কারও পুরো গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলেই কেউ ফেল থেকে পাস করেছেন, কেউ পেয়েছেন নতুন করে জিপিএ-৫।

বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়নের চাপ থাকলেও পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনে অসতর্কতার সুযোগ নেই। কারণ একটি নম্বরের ভুলও একজন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন করতে পারে এবং তার পরবর্তী শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর ও ফল পরিবর্তন হয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয়। খাতা দেখার সময় শিক্ষকদের যে গভীর মনোযোগ ও সচেতনতা থাকা উচিত ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবত তার অভাব ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা শেষ করার তাড়াহুড়ায় কোনো কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে থাকতে পারেন। 

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষকের অবহেলার কারণে ফল পরিবর্তন হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, তাদের পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের প্রতিবেদন থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়ী পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পারে। একইসঙ্গে গুরুতর ভুলের ক্ষেত্রে তাদের নাম কালো তালিকাভুক্ত করে ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

খাতা দেখায় গাফিলতি পেলে শাস্তির মুখে পড়বেন পরীক্ষক : মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

প্রথম দফায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদ।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে যেসব উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রথম পরীক্ষকই নন, প্রধান পরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বও পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষকের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুনর্নিরীক্ষণে মাদ্রাসা বোর্ডের প্রায় ৫ হাজার ৯৪৪টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হলে পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে ১০ নম্বর পর্যন্ত পরিবর্তনকে স্বাভাবিক পরিবর্তনের আওতায় ধরা হলেও এর বেশি নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের দায়িত্ব ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, পুনর্নিরীক্ষণে যেসব উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ১০ নম্বর পর্যন্ত পরিবর্তন হলে তা স্বাভাবিক পরিবর্তনের আওতায় পড়ে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান নেই। তবে কোনো উত্তরপত্রে ১০ নম্বরের বেশি নম্বর বাড়ানো বা কমানো হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে যেসব খাতায় ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে শনাক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরএইচটি/জেডএস