বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বন্ধে নতুন আচরণবিধি হচ্ছে

শিক্ষকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বন্ধে নতুন আচরণবিধি হচ্ছে

দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতিতে অতিমাত্রায় জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন আচরণবিধি করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন বিধিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষকরা ক্লাসরুমের পাঠদানের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দেওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার ফলাফলেও।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়ানো ঠেকাতে আচরণবিধি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধির একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়াটি পরিমার্জনের পর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষকরা তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। অতীতে দেখা গেছে, কিছু শিক্ষক ক্লাসরুমে পাঠদানের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রেখে জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

এদিকে শিক্ষার মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আচরণবিধি সংশোধন এবং শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিষয়টি রয়েছে।

নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, চিত্রাঙ্কন ও গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে সারা দেশে সময়বদ্ধ অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।

দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যাতে সেরা শিক্ষকদের ক্লাস করার সুযোগ পায়, সে জন্য একটি আলাদা ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনলাইনে তদারকির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে মানসম্মত ও কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। আলাদা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত ভবন শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সংকট দ্রুত কাটাতে শূন্য পদ পূরণ এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কারের মাধ্যমে পাঠদান ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া শ্রমবাজারের চাহিদা এবং শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য ও আগ্রহ অনুযায়ী কারিগরি, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরিতে কেন্দ্রীয় গবেষণা ডাটাবেজ গড়ে তোলা এবং স্থানীয় চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং প্রশিক্ষণের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণের পর ভালো চর্চা ও সফল অভিজ্ঞতা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকদের ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ