বিজ্ঞাপন

একাদশে ভর্তির আবেদনই করেনি দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

একাদশে ভর্তির আবেদনই করেনি দেড় লাখ শিক্ষার্থী!

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে রয়েছে ২৫ লাখের বেশি আসন। এসব আসনের অর্ধেকও এবার পূরণ হওয়ার মতো শিক্ষার্থী নেই। এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি। ফলে রাজধানী ও বড় শহরের নামি কলেজগুলোতে পছন্দের আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা হলেও দেশের বহু মফস্বল ও গ্রামের কলেজকে এবার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী। এর বিপরীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা— এই তিন বিভাগ মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েও ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩২ জন শিক্ষার্থী এখনো উচ্চমাধ্যমিকে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় নাম লেখায়নি। পাস করেও তারা কেন একাদশে ভর্তির আবেদন করেনি, তাদের কতজন অন্য কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় যাচ্ছে কিংবা কতজন পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে, এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

আবার আসন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাব পাশাপাশি রাখলে পরিস্থিতির বিপরীত চিত্রও উঠে আসে। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে ২৫ লাখের বেশি। বিপরীতে ভর্তির যোগ্য শিক্ষার্থী ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন। অর্থাৎ সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে থাকবে। এর বাইরে পাস করেও যারা এখনো ভর্তির আবেদন করেনি, তাদের বাদ দিলে বাস্তবে কলেজে যাওয়ার পথে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যায়।

dhakapost

তবে দেশের সব কলেজে এর প্রভাব সমান নয়। রাজধানী ও বড় শহরের নামি কলেজগুলোতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্রতিযোগিতা থাকবে। নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে এসব কলেজে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফল ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। কিন্তু শহর থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, চিত্র ততই বদলে যায়।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত মূল ফলে উত্তীর্ণ হয় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে আরও ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে। সব মিলিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জনে। ফলে মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকে যাওয়ার সম্ভাব্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি যেসব এলাকায় পাসের হার তুলনামূলক কম, সেসব এলাকার কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী পাওয়ার চাপও বেড়েছে

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক কলেজের সামনে এখন আর আসন পূরণের চিন্তা নয়, বরং ন্যূনতম সংখ্যক শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে কি না সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব কলেজ আশপাশের কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল, সেসব প্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে একাদশের ভর্তি ও শ্রেণি কার্যক্রমে। ফলে শহরের কলেজে যখন ‘কোথায় ভর্তি হবে’ তা নিয়ে প্রতিযোগিতা, তখন মফস্বল ও গ্রামের অনেক কলেজ ন্যূনতম শিক্ষার্থী মিলবে কি না সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে দেশের কলেজশিক্ষায় ধীরে ধীরে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও কলেজসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কোথাও পছন্দের কলেজে একটি আসনের জন্য একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করছে, আবার কোথাও নির্ধারিত আসনের একটি অংশ পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বৈপরীত্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে গ্রাম ও মফস্বলের কলেজগুলোতে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশই আশপাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর ফল খারাপ হলে তার প্রভাব কয়েক মাসের মধ্যেই গিয়ে পড়ে কলেজের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমে।

চলতি বছরের ফল সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত মূল ফলে উত্তীর্ণ হয় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে আরও ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে। সব মিলিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জনে। ফলে মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকে যাওয়ার সম্ভাব্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি যেসব এলাকায় পাসের হার তুলনামূলক কম, সেসব এলাকার কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী পাওয়ার চাপও বেড়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের শহরমুখী প্রবণতা। পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ স্থানীয় কলেজে না পড়ে জেলা শহর কিংবা বড় শহরের তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। ফলে একই এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে আগে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী স্থানীয় কলেজে আসত, এখন তার একটি অংশ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এতে গ্রামীণ কলেজের শ্রেণিকক্ষ ধীরে ধীরে ফাঁকা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু শ্রেণিকক্ষের উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক বেসরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের কলেজ শিক্ষার্থীসংখ্যার ওপর নির্ভর করে তাদের আয়-ব্যয় পরিচালনা করে। ভর্তি ও টিউশন ফি থেকে আয় কমে গেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয় সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমতে থাকলে বিভাগ চালু রাখা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ধরে রাখা কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে

শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু শ্রেণিকক্ষের উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক বেসরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের কলেজ শিক্ষার্থীসংখ্যার ওপর নির্ভর করে তাদের আয়-ব্যয় পরিচালনা করে। ভর্তি ও টিউশন ফি থেকে আয় কমে গেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয় সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমতে থাকলে বিভাগ চালু রাখা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ধরে রাখা কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

dhakapost

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রতিবছর এসএসসি ফল প্রকাশের পর একাদশে ভর্তি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকে। এবার সেটি আরও বেশি। আশপাশের বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার কম হওয়ায় সম্ভাব্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। আবার যারা পাস করেছে, তাদের একটি অংশ জেলা শহর বা তুলনামূলক ভালো কলেজে যেতে চায়। ফলে গ্রামের কলেজে শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, অবকাঠামো ও অন্যান্য ব্যয় শিক্ষার্থীসংখ্যার সঙ্গে সরাসরি না কমলেও আয় কমে গেলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়। আমাদের মতো কলেজগুলো মূলত আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল। সেই শিক্ষার্থীই যদি কমে যায়, তাহলে আসন ফাঁকা থাকবে, শ্রেণিকক্ষেও উপস্থিতি কমবে। একসময় এর প্রভাব পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়তে পারে।

শ্রীপুরের বরমী এলাকার চিত্রও একই ধরনের। বরমী ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা তিন বিভাগে মোট আসন রয়েছে ৪০০টি। তবে এবার একাদশে ভর্তির আবেদনে তিন বিভাগ মিলিয়েও অর্ধেক আসন পূরণের মতো আবেদন পড়েনি। এমনকি মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশও পূরণ হয়নি।

এ বিষয়ে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কলেজটির একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, মাধ্যমিকে পাসের হার কমে গেলে তার প্রভাব একাদশে এসে পড়ে। একটি এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে যত শিক্ষার্থী কলেজে আসার কথা, পাসের হার কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সেই সংখ্যা কমে যায়। এখন যদি প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে কয়েক বছর পর গ্রামের বা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

dhakapost

তিনি বলেন, শুধু আসন থাকলেই তো হবে না, সেই আসনে বসার মতো শিক্ষার্থীও থাকতে হবে। আমাদের এখানে ৪০০ আসন আছে, কিন্তু সেই আসন পূরণ করার মতো শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ শহরের ভালো কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে। ফলে সমস্যাটা আসনের নয়, শিক্ষার্থী বণ্টনের।

শহরের কলেজের সঙ্গে গ্রামের কলেজগুলোর প্রতিযোগিতাও এখন আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করেন ওই শিক্ষক। তিনি বলেন, অভিভাবকেরা সন্তানকে ভালো কলেজে পড়াতে চান। যাতায়াতের সুবিধা থাকলে কিংবা সামর্থ্য থাকলে অনেকেই উপজেলা বা জেলা শহরের কলেজ বেছে নেন। ফলে গ্রামের কলেজগুলোর সামনে শুধু কম পাসের হার নয়, শিক্ষার্থী ধরে রাখার প্রতিযোগিতাও রয়েছে।

এমন অবস্থায় শিক্ষার্থী ধরে রাখতে মফস্বল ও গ্রামের কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, এসএসসি পাসের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়ায় ভবিষ্যতে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংকট আরও প্রকট হতে পারে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার কমার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অকালেই থেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মফস্বল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান প্রত্যাশিতভাবে উন্নত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও দুর্বলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায়নি। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের কলেজমুখী হওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

বরিশাল বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের মতো মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহও সব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দারিদ্র্য। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেক ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে এসএসসি পাসের পরই শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মফস্বল কলেজগুলোতে আসন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

dhakapost

বাল্যবিবাহ-দারিদ্র্যে বাড়ছে ঝরে পড়া, কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্যসহ নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। এসএসসি পাসের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত।

রাজশাহী বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বসে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। কারণ শুধু কলেজে আসন থাকলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ধরে রাখার জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলোও দূর করতে হবে। বর্তমানে বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে, যা শিক্ষার সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য বড় বাধা।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে সম্মিলিতভাবে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি ঝরে পড়ার প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে একাদশ ভর্তির ফল

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায়। অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ফল দেখতে পারবেন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা, আসনসংখ্যা এবং শিক্ষার্থীর দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে এ ফল তৈরি করা হয়েছে।

এবারও একাদশে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি রাখা হয়নি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম তৈরি করে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী কোন কলেজে সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করবে তার ফল, পছন্দক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কলেজে আসনের প্রাপ্যতার ওপর।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৪ আগস্ট ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা ২০২৬’ প্রকাশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয় এবং ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। এসএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী সময়ে আবেদন বা আগের আবেদন সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

এবার একাদশে ভর্তির মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।

আরএইচটি/জেডএস