‘আমি যদি হাত পাতি তাহলে আমার রবের কাছে চাইবো’

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা শামীম হোসেন। অথচ আজ তার জীবনের চিত্রটি বড়ই করুণ। গত তিন-চার বছর ধরে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন বললেই চলে। বর্তমানে চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এই অভিনেতা। অভাবের তাড়নায় এবার তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শামীম জানান, মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে তিনি এই অঙ্গনে কাজ শুরু করেছিলেন। ‘সুপারম্যানের’ মতো পরিশ্রম করেছেন প্রোডাকশন থেকে শুরু করে অভিনয়ের নানা স্তরে। কিন্তু সেই সময়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোনো অর্থ সঞ্চয় করেননি। তার কথায়, ‘সঞ্চয় করি নাই। খালি আজকে খাই, কালকে তো কামাই করমুই। এই করতে তো পয়সা সঞ্চয় করা হয় নাই।’
বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে ইউটিউব চ্যানেলের কোনো কাজও পাচ্ছেন না। তার তিন ছেলে এবং স্ত্রীসহ পাঁচজনের সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি আসন্ন ঈদে সন্তানদের নতুন কোনো আবদার করার সাহসও নেই। শামীম বলেন, ‘আমার মাসুম বাচ্চাগুলা... তারা বলছে বাবা পরিস্থিতি কিন্তু তোমরা নিজেরই দেখতেছো, কোন চাওয়া নাই।’
এত অভাবের মাঝেও অভিনেতা কারো কাছে আর্থিক সাহায্য বা ভিক্ষা চাইছেন না। তার একমাত্র আকুতি তাকে যেন কাজে ফেরানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমি কারো কাছে আর্থিক সাপোর্ট চাইবো না। আমি যদি হাত পাতি তাহলে আমার রবের কাছে চাইবো। আমি শুধু একটা জিনিসই চাইবো আমাকে ঈদের পর থেকে কাজে ডাকেন সবাই। আমি নাটকের ডায়লগ এক্টিং ভুইলা যাইতাছি গা।’
৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজেকে এখনো শতভাগ ফিট দাবি করে বলেন, ‘আমার কোন টাকা পয়সা লাগবে না। আমি শুটকি ভর্তা ভাত খামু কিন্তু আমারে একটু কাজ দিয়েন।’
অভিনয় ছেড়ে অন্য পেশায় কেন যাচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম হোসেনের বলেন, ‘এই চেহারাটা এমন মার্কা মারা যে প্রফেশনটা চেঞ্জও করতে পারতেছি না। না পারমু অটোরিক্সা চালাইতে আমি করলে শিল্পী তো আরেকটা শিল্পীর অপমান হবে। সেই কারণে নিজেই না খাইয়া রইছি শিল্পীগো সম্মান বাঁচাইতে গিয়া।’
এমআইকে