দারুণ কাস্টিং, তবুও ‘প্রিন্স’–এর টিজারে হতাশ দর্শক

নানা জল্পনা-প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেল ঈদের ছবি ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’–র টিজার। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশ পায় সিনেমাটির ‘প্রি-ব্লাস্ট’। যেখানে মেগাস্টার শাকিব খানের সঙ্গে একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর উপস্থিতিতে দারুণ কাস্টিংয়ের আভাস মিলেছে। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে টিজারটি।
টিজারে কাস্টিংয়ের বৈচিত্র্য ও চরিত্রগুলোর লুক বেশ নজরকাড়া। ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের এই ঝলকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার রূপে হাজির হয়েছেন শাকিব খান। তাকে দুটি ভিন্ন লুকে দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন

একটিতে লম্বা চুল ও চোখে সানগ্লাস পরে তিনি অ্যাকশন মুডে আছেন, অন্যটিতে ছোট কোঁকড়া চুল, ছোট দাড়ি ও ডেনিম জ্যাকেটে তাকে এক অন্য রূপে দেখা গেছে। এটি প্রিন্সের অতীত কাহিনি নাকি দ্বৈত চরিত্র, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে দর্শকমহলে।
দুই নায়িকার মধ্যে তাসনিয়া ফারিণকে দেখা গেছে রাতের অন্ধকারে একটি গাড়ি ভেতর। যেখানে তার চরিত্রকে চিন্তিত ও রহস্যময় রূপে দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ওপার বাংলার নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর দেখা মেলে লাস্যময়ী ও প্রাণোচ্ছল রূপে। জ্যোতির্ময়ীকে এক ঝলক দেখা মিললেও ভারতীয় শিল্পীদের চরিত্রগুলোর ডেলিভারি নিয়ে প্রশংসা বইছে বেশ।

বিশেষ করে তাদের অ্যাকশন, অ্যাটিউড নিয়ে বলিউডি ভাইব নিয়ে আলোচনায় মেতেছে দর্শকমহল। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ লোকনাথ দে-কে দেখা গেছে চিরচেনা, গ্যাংদের একজন চতুর দলনেতার রূপেই; যা দিয়েছে আলাদা মাত্রা।

এছাড়াও ভারতীয় ওয়েব কনটেন্ট থেকে আলোচনায় আসা অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যকে দেখা গেছে পুরোদস্তর একজন নির্দয়, নৃশংস খলনায়কের ভূমিকায়। বয়স্ক লুকে পাইপ হাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার চিন্তামগ্ন অবস্থা তৈরি করেছে রহস্য; সঙ্গে ক্যামেরায় ফুটে উঠিয়েছেন সর্বোচ্চ রুক্ষ চরিত্র।

সব মিলিয়ে মেকআপ ও গেটআপে এক জমজমাট অপরাধ জগতের গল্প বলার চেষ্টা করেছে পর্দার সামনে থাকা শিল্পীরা, তা বলার বাকি রাখে না। আর নিয়েই সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আলোচনা।

কিন্তু চরিত্রগুলো ভালো করলেও সিনেমাটির দুর্বল ভিএফএক্স বা স্পেশাল ইফেক্টস নিয়ে ব্যাপক হতাশা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে কিছু দর্শকের মাঝে। যে কারণে কাস্টিং ও লুকের এই ইতিবাচক দিকগুলো যেন ঢাকা পড়ে গেছে।
টিজারের শেষভাগে শাকিব খানের হাতে একটি বিশাল মিনিগান বা ভারী আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়, যা দিয়ে তিনি বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ে প্রতিপক্ষ ও ভবন ধ্বংস করছেন। কিন্তু এই দৃশ্যটির ভিএফএক্স দর্শকদের কাছে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। আগুনের ফুলকি, বুলেটের আঘাত এবং ভবন ধ্বংসের গ্রাফিক্স এতটাই অপরিপক্ব মনে হয়েছে যে, তাতে হতাশ হয়েছে দর্শকেরা।

সামাজিক মাধ্যমে সিনেমা বিষয়ক গ্রুপগুলোতে দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্যকারীদের অনেকেই তাদের এই হতাশা লুকাননি। একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন যে, এটি দেখে তার কাছে ২০১৫ সালের সিনেমাগুলোর মতো লেগেছে এবং তিনি পুরোই হতাশ।
সর্বোচ্চ রিঅ্যাক্ট পাওয়া মন্তব্যগুলোর একটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ভিএফএক্সে তারা দারুণভাবে হতাশ হয়েছেন এবং অনেকেই তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৬ সালে এসেও কেন দর্শকদের এমনভিএফএক্স দেখতে হবে, এর চেয়ে বরং সাম্প্রতিক অন্যান্য সিনেমার মান অনেক ভালো। কোটি টাকা বাজেটের সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও টিজারটি একেবারেই জমেনি বলে মন্তব্য করেছেন অনেক সিনেমাপ্রেমী।

কেউ কেউ আবার সমসাময়িক অন্যান্য সিনেমা যেমন বরবাদ, তুফান বা তাণ্ডব-এর টিজারের সঙ্গে তুলনা করে বলছেন, প্রিন্সের চেয়ে ওই সিনেমাগুলোর টিজার অনেক ভালো ছিল।
নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের এই সিনেমাটিতে শাকিব, ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী ও দিব্যেন্দুর পাশাপাশি রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, শরীফ সিরাজের মতো শক্তিমান অভিনেতারা রয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মনোরম লোকেশনে এর শুটিং হয়েছে।
ডিএ