ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি আর নেই। সমুদ্র সংলগ্ন তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অভিনেতা। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে এখন বইছে শোক; কাঁদছেন তার সহশিল্পীরা। গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন সন্দীপ্তা সেন থেকে শুরু করে রজতাভ দত্তরা।
বিজ্ঞাপন
‘তুমি আসবে বলে’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন রাহুল ও সন্দীপ্তা। একসময়ের সহকর্মীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এই অভিনেত্রী। জানান, এই খবর অত্যন্ত শকিং এবং মেনে নেওয়া যায় না। সিনেমা, সিরিয়াল, থিয়েটার, লেখালেখির কাজ সব কিছু রাহুল সুন্দর সামলাচ্ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এই খবর এতটাই বেদনাদায়ক যে এই মুহূর্তে তাদের সময় দেওয়া উচিত। এই ঘটনা বিশ্বাস করতে তাদেরই যেখানে এতটা কষ্ট হচ্ছে, সেখানে রাহুলের পরিবারের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে সেটা বলে বোঝানোর মতো নয়।
পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারেননি। ভাষা হারিয়ে ফেলন। তার মতে, রাহুলের মতো একজন প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রির কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। অন্যদিকে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষের কণ্ঠেও ছিল বেদনার সুর। রাহুল তার কাছে ভাইয়ের মতো ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিনেতা রজতাভ দত্ত জানান, গত রোববারে রাহুলের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং পডকাস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন খবর শুনবেন তা তিনি ভাবতেও পারেননি। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এ ঘটনায় রীতিমতো স্তব্ধ। তিনি সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমকে এই মুহূর্তে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে অপারগ তিনি। রাহুলের নিস্প্রাণ দেহের ছবি পোস্ট না করারও অনুরোধ জানান এই অভিনেত্রী।
সুষ্ঠু তদন্ত চান তারকারা
এদিকে চোখের পলকে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং শুটিং স্পটে অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও রূপাঞ্জনা মিত্র। রূপাঞ্জনা মিত্র অভিযোগ করে বলেন, কোনও নিরাপত্তা ছাড়া শুটিং হচ্ছে, এর দায় ইন্ডাস্ট্রিকে নিতেই হবে। আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিল্পীরা কাজ করছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য সুদীপ্তা চক্রবর্তীও শুটিং স্পটে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছর বয়সী রাহুল। তালসারিতে জলে নামলে জোয়ারের সময় তলিয়ে যান তিনি। টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। দিঘা থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। বড়পর্দা, ছোটপর্দা ও থিয়েটারে অবাধ বিচরণ করা এই অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে।
ডিএ
