বিজ্ঞাপন

হারিয়েছেন দুই সন্তান, প্রয়াত আশা ভোঁসলের বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে?

অ+
অ-
হারিয়েছেন দুই সন্তান, প্রয়াত আশা ভোঁসলের বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে?

সুরের জগতে যার অবদান অমূল্য, তার বাইরেও নিজের পরিশ্রমে এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন সদ্যপ্রয়াত ভারতীয় কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে এই সুরসম্রাজ্ঞীর জীবনাবসানের পর বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তানকে আগেই হারিয়েছিলেন তিনি। ফলে তার রেখে যাওয়া কয়েকশ কোটি টাকার বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকার কে হতে যাচ্ছেন; তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। 

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে আশা ভোঁসলে প্রায় আনুমানিক কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭০ থেকে ৩৪০ কোটি টাকা)। তবে কিছু গণমাধ্যমে তার সম্পদের পরিমাণ ৮০ থেকে ১০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩৫ কোটি টাকা) বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হচ্ছে, এই বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে মূলত তার দীর্ঘ সংগীতজীবন, লাইভ পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক শো এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানো এই শিল্পী আয়ের একটি বড় অংশ পেতেন গানের রয়্যালটি থেকে। এছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লাইভ শো ও ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকেও তার নিয়মিত আয় হতো।

বিজ্ঞাপন

আশা ভোঁসলের আর্থিক সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ। জানা যায়, মুম্বাই ও পুনেসহ একাধিক শহরে তার বিলাসবহুল সম্পত্তি আছে। সম্পত্তির তালিকায় ছিল অভিজাত আবাসন ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। পাশাপাশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০০২ সালে দুবাইয়ে শুরু হওয়া তার রেস্তোরাঁ চেইন 'আশা’জ' বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই শিল্পী মুক্তা ও হীরা এবং নামী ব্র্যান্ডের গাড়ির শৌখিন ছিলেন। তার সংগ্রহে অডিসহ একাধিক দামি গাড়ি ছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি তাকে বারবার সইতে হয়েছে। ২০১২ সালে তার মেয়ে বর্ষা আত্মহত্যা করেন এবং ২০১৫ সালে বড় ছেলে হেমন্ত ক্যানসারে মারা যান। দুই সন্তান হারানোর পর তার একমাত্র জীবিত ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং আশার নাতি-নাতনিরাই এখন এই বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হচ্ছেন।

দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী শুধু সম্পদ নয়, রেখে গেছেন তার অমর কণ্ঠের অমূল্য উত্তরাধিকার। অর্জিত সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি নিয়মিত সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতেন বলেও জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএ

বিজ্ঞাপন