বিজ্ঞাপন

মাইকেলকে চাবুকপেটার যন্ত্রণা অনুভব করছে দর্শকরাও!

মাইকেলকে চাবুকপেটার যন্ত্রণা অনুভব করছে দর্শকরাও!

বিশ্বজুড়ে রীতিমতো ঝড় তুলছে কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। গত বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। ‘মাইকেল’ সিনেমার রাতের প্রদর্শনী যেন মিস করতে চাননি কেউই। এসব তথ্যের পাশাপাশি দ্যা গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এলো প্রেক্ষাগৃহের ভেতরের দৃশ্যও। 

২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই সিনেমা ৫০০ ধরে ফেলবে শিগগিরই, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে এমনটাই। আয়ের দিক থেকে ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘ওপেনহাইমার’কেও ছাড়িয়ে গেছে এই বায়োপিক। সিনেমাটির অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করেছে মাইকেল জ্যাকসনের তারকাখ্যাতির বিশালতা। শোনা যাচ্ছে, আসতে পারে এর সিক্যুয়েলও।

তবে বায়োপিকটি নিয়ে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে; যা নানা প্রশ্ন তুলেছিল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে। রটেন টম্যাটোসে সাধারণ দর্শকরা সিনেমাটিকে ৯৭ শতাংশ রেটিং দিলেও সমালোচকরা দিয়েছেন মাত্র ৩৮ শতাংশ। অনেকের দাবি, মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা কালো দিক এই বায়োপিকে ফুটে ওঠেনি।

তবে ভক্তদের আবেগ এসব সমালোচনাকে ছাপিয়ে গেছে। হলে আসা জোয়ান নামের এক তরুণী দ্যা গার্ডিয়ানকে জানান, তিনি জ্যাকসনের গান শুনেই বড় হয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি সেজেছিলেন জ্যাকসনের আইকনিক 'অফ দ্য ওয়াল' অ্যালবামের সাজে। জোয়ান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সিনেমা দেখার জন্য তিনি এর আগে কখনোই এভাবে সাজগোজ করেননি। তার সঙ্গে আসা বন্ধু তাহলিয়াও জ্যাকসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের হাতে তৈরি একটি পিস সাইন শার্ট পরে এসেছিলেন।

প্রেক্ষাগৃহের ভেতরের পরিবেশ ছিল আরও টানটান। ‘ওয়ানা বি স্টার্টিন সামথিন’ গানের পরিচিত সুর দিয়ে শুরু হওয়া গল্প মুহূর্তেই দর্শকদের নিয়ে যায় জ্যাকসনের শৈশবে। তবে পর্দায় যখন দেখা যায় সফল পারফরম্যান্সের পরেও ছোট্ট মাইকেলকে তার বাবা নির্দয়ভাবে চাবুক পেটা করছেন, তখন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দর্শকরা আক্ষরিক অর্থেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। সেই কষ্ট নিমিষেই ছাপিয়ে যায় বিস্ময়ে, যখন ১০ বছর বয়সী মাইকেলের চরিত্রে শিশুশিল্পী জুলিয়ানো ভালডিকে প্রথমবার গান রেকর্ড করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, শিশুশিল্পী জুলিয়ানো ভালডি এই বায়োপিকে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

পরিচালক ফুকুয়া এই দৃশ্যে আবহসংগীত কমিয়ে ভালডির খালি কণ্ঠের ওপর জোর দিয়েছেন। তার কণ্ঠ হুবহু জ্যাকসনের মতো শোনায় দর্শকরাও রীতিমতো চমকে গেছেন। এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক মাইকেলের চরিত্রে তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের গায়কীও মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সিনেমাটি শেষ হয় 'হিজ স্টোরি কন্টিনিউস' (তার গল্প চলছে) বার্তা দিয়ে। কৌশলগতভাবে মাইকেলের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে গেলেও ধারণা করা হচ্ছে সিক্যুয়েল আসলে সেখানে সেই ঘটনাগুলো উঠে আসতে পারে।

‘মাইকেল’-এর সঙ্গে বাংলাদেশি নেটিজেনদের আবেগ

সারাবিশ্বের সঙ্গে দেশের প্রেক্ষাগৃহেও চলছে এই বায়োপিক। সিনেমাটি দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে মাইকেল জ্যাকসনের প্রভাব কেমন, তা উঠে এসেছে এক ভক্তের স্মৃতিচারণায়। ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের বিদায়ে স্থবির হয়ে পড়েছিল পুরো পৃথিবী, যার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সুদূর বাংলাদেশের মফস্বল শহরগুলোতেও।

তখন ইন্টারনেট না থাকলেও মফস্বলের ড্রয়িংরুমে লোকজ সুরের পাশাপাশি ঠাঁই করে নিয়েছিল মাইকেল জ্যাকসন। এখন সেই প্রজন্মকেও দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি নিয়ে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করতে। বলা বাহুল্য, নাইন্টিজ কিংবা মিলেনিয়ালদের কাছে আজকের এই বায়োপিক শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক যুগের নস্টালজিয়া-ও।

দ্য গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য এবং সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশি দর্শকদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ডিএ

বিজ্ঞাপন