কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের প্রথম গানে কণ্ঠ দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাহতিম শাকিব। তুরস্কের শিল্পীদের সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানে তার পরিবেশনা পাচ্ছে বিশ্বজোড়া প্রশংসা। তার সংগীতযাত্রা এবং সমসাময়িক ব্যস্ততা নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্বীন অর্ণব।
ঢাকা পোস্ট: নতুন শিল্পী হিসেবে কোক স্টুডিও বাংলার মতো এত বড় প্ল্যাটফর্মে আপনার অভিষেক, তাও আবার চতুর্থ সিজনের প্রথম গানে। চারদিকে এত প্রশংসা মিলছে, অনুভূতি কেমন?
মাহতিম শাকিব: কোক স্টুডিও তো বিশাল বড় ও ইন্টারন্যাশনাল একটা প্ল্যাটফর্ম । সো এরকম একটা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অ্যাজ আ পারফর্মার যুক্ত হতে পারাটা সত্যি আনন্দের ব্যাপার। দ্বিতীয়ত, এটা একটা বিরাট বড় মাইলস্টোন, যেটা আমরা অ্যাচিভ করেছি । এই অর্জন পরবর্তী কাজের অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ বাড়িয়ে তুলবে। পথে ঘাটে কেউ যখন দাঁড় করিয়ে বলে, তোমার ওই গানটা শুনেছি যেখানে তুমি পারফর্ম করেছো, খুব ভালো লেগেছে—গাড়িতে বা বাসায় হয়তো ১৫-২০ বার শুনেছে; এগুলো শুনলে আসলে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় এবং খুবই ভালো লাগে। আসলে একজন শিল্পীর সার্থকতা এখানেই।
ঢাকা পোস্ট: কোক স্টুডিও বাংলার সঙ্গে আপনার এই যাত্রার শুরুটা কীভাবে?
মাহতিম শাকিব: ‘ওয়ান প্রজেক্ট অ্যাট আ টাইম’—আমি এই ভাবনায় বিশ্বাসী। কোক স্টুডিওতে প্রথমবার গাইতে পারা; সেটার সঙ্গে এরকম একটা ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন এবং এত বড় আয়োজন; সবকিছু মিলিয়ে আমি প্রচণ্ড এক্সাইটেড ছিলাম। মিউজিক প্রডিউসার শুভেন্দু দাস শুভর সঙ্গে আমার পরিচয় অন্তত ছয়-সাত বছর আগে, ২০১৮ সালের দিকে। দাদার সঙ্গে তখনই আসলে একটা ডিফারেন্ট লেভেলে কানেকশনটা হয়ে গিয়েছিল। আমার মনে হয়, আমাদের মিউজিক্যাল বোঝাপড়া অনেক ভালো। তো দীর্ঘদিনের জানাশোনা আর বোঝাপড়া থেকেই এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়া।

ঢাকা পোস্ট: কোক স্টুডিওতে প্রথমবার গাইলেন, তাও আবার কবি কাজী নজরুল ইসলামের আইকনিক গান। সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন। কোনটা বেশি ছিল, নার্ভাসনেস নাকি এক্সাইটমেন্ট?
মাহতিম শাকিব: আমি যথেষ্ট এক্সাইটেড ছিলাম কারণ ইন্টারন্যাশনাল পারফর্মারদের সঙ্গে কাজ করব। আর জাতীয় কবির গান গাইতে পারাটা বিশেষ ভালোলাগার। যদিও নজরুল সংগীতে আমি প্রথাগতভাবে ট্রেইনড না। নজরুল সংগীতে আমার চর্চা একেবারেই অল্প। তবে নজরুলের শ্যামা সংগীতের প্রতি আমার বিশেষ ভালোবাসা আছে। আমার ওস্তাদজি আমাকে সব ধরনের গান শোনার অভ্যাস করিয়েছিলেন। স্পেসিফিকলি ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ওপর তালিম নিয়েছি। তাই মন থেকে আনন্দ নিয়েই গেয়েছি।
আরও পড়ুন
ঢাকা পোস্ট: বাংলাদেশ তো বটেই, ভারত, পাকিস্তান এমনকি সুদূর তুরস্ক অব্দি শোনা যাচ্ছে আপনার কণ্ঠ; পাওয়া যাচ্ছে প্রশংসা, অনুভূতি কী?
মাহতিম শাকিব: কোনো কাজ একবার হয়ে যাওয়ার পর আমি আর সেটা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে পছন্দ করি না। এতে কাজে স্থবিরতা চলে আসে। তবে মানুষের এ ভালোবাসাটাই আমার প্রকৃত আনন্দ। আমি যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি না, তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাটা একটু ডিফিকাল্ট। তবে কাছের মানুষদের কাছে এবং পথেঘাটে যাদের সামনাসামনি প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তারা খুবই প্রশংসা করেছেন। এটা অবশ্যই অনুপ্রেরণা দেয়।
তুরস্কের শিল্পীদের যে এনার্জি ছিল, তাদের সঙ্গে ম্যাচ করতে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। একটা ইনফরমেশন এখনো শেয়ার করা হয়নি—আমি ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে কোক স্টুডিওতে পারফর্ম করেছি। একটু পর পর ডোজ অফ করছিলাম, কিন্তু সহশিল্পীদের ওই এনার্জিই আমাকে ওই জ্বরের মধ্যে পারফরম্যান্স কন্টিনিউ করার বুস্ট দিয়েছিল।
ঢাকা পোস্ট: একই মঞ্চে তুরস্কের দুই অভিজ্ঞ শিল্পী এবং তরুণ গায়িকা নুসরাত জাহানের সঙ্গে গাইলেন। সহশিল্পী হিসেবে তাদের কাছ থেকে কেমন সাপোর্ট পেলেন?
মাহতিম শাকিব: নুসরাতের সঙ্গে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা বেশ আলাদা। শুরুর আগে ও হয়তো কিছুটা নার্ভাস ছিল, কিন্তু যখন পারফর্ম করা শুরু করল এবং গ্রুভে চলে এল, তখন শি ওয়াজ আনস্টপেবল অ্যান্ড ভেরি প্রফেশনাল। আর তুরস্কের শিল্পীদের যে এনার্জি ছিল, তাদের সঙ্গে ম্যাচ করতে আমাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল! একটা ইনফরমেশন এখনো শেয়ার করা হয়নি—আমি ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে কোক স্টুডিওতে পারফর্ম করেছি। একটু পর পর ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম; কিন্তু সহশিল্পীদের ওই এনার্জিই আমাকে জ্বরের মধ্যে পারফরম্যান্স কন্টিনিউ করার শক্তি দিয়েছিল। কাজটা যখন শুরু হয়, তখন সবকিছু ম্যাজিক্যাল মনে হয়েছিল। তাদের সঙ্গে গানটা করে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করেছি, সবাইকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানাই। অর্কেস্ট্রা সেকশন থেকে শুরু করে সব মিউজিশিয়ানদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ ।

ঢাকা পোস্ট: সংগীত প্রযোজক শুভেন্দু দাস শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
মাহতিম শাকিব: আমি কাজের সময়টায় খুব সিরিয়াস থাকি। দাদার সঙ্গে আমার মিউজিক্যাল বন্ডিং খুব চমৎকার। সত্যি বলতে, এত নিচু স্কেলে পারফর্ম করা আমার জন্য একটু ডিফিকাল্ট ছিল এবং আমি কিছুটা হতাশও হচ্ছিলাম, প্রপারলি এক্সপ্রেস করতে পারব কি না! কিন্তু শুভেন্দু দা আমাকে বারবার কনফিডেন্স দিয়েছেন, আমি পারব। শেষ পর্যন্ত ফাইনাল গানটা শোনার পর আমি হ্যাপি এবং এটার ক্রেডিট কমপ্লিটলি দাদার।
ঢাকা পোস্ট: নজরুল সংগীতের মতো ধ্রুপদী বা ক্ল্যাসিক একটি কাজকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফিউশন আকারে পরিবেশন করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। মূল শেকড় ঠিক রেখে আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পী হিসেবে আপনারা কতটা সতর্ক ছিলেন?
মাহতিম শাকিব: অবশ্যই, আমরা তো যথেষ্ট সতর্ক ছিলাম। এই গানগুলো যেহেতু বছরের পর বছর শুনে আসা হচ্ছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শুনছে, সবার মধ্যেই নানা আবেগ জড়িয়ে আছে গানগুলোর নিয়ে। তবে যে ভার্সনটা শুনে প্রেমে পড়ে যাই, ওই ভার্সনটাই আমাদের কাছে বেঞ্চমার্ক হয়ে দাঁড়ায়। তাই এরকম কাজের ক্ষেত্রে এসব দিকে সতর্ক থাকতে হয়, কারণ ব্যতিক্রম কিছু হলে অনেকেই তা অপছন্দ করতে পারেন। অর্থাৎ ফিউশন ব্যাপারটা স্পর্শকাতর। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সতর্ক থাকার।

ঢাকা পোস্ট: নিজের মৌলিক গান নিয়ে নতুন কী ভাবছেন?
মাহতিম শাকিব: ঈদে আমার ‘প্রেমের মেয়ে’ নামে একটা রিফ্রেশিং গান এসেছে। এটা আমার গণ্ডির বাইরের একটি কাজ। এছাড়া ওপার বাংলায় প্রসেন দার কথা ও সুরে ‘বাক্সের গান’ রিলিজ হয়েছে, এটাও আমার ক্যারিয়ারের জন্য একটি মাইলস্টোন। নতুন অনেকগুলো গান আমার চ্যানেলের জন্য গুছিয়ে রেখেছি। কিন্তু ব্যস্ততা এবং আর্টিস্টিক স্যাটিসফেকশনের কারণে রিলিজ দিতে একটু গড়িমশি হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই শ্রোতাদের জন্য মৌলিক গান নিয়ে আসব।
ডিএ/কেআই
