বাংলা গানের নন্দিত সুরকার ও সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দের জন্মদিন আজ। ১৯৫৬ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন তিনি। বেঁচে থাকলে হয়তো প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দেই কাটত দিনটি। কিন্তু বছর নয়েক আগেই তিনি চলে গেছেন সব কিছুর উর্ধ্বে, অনন্তলোকে।
আজ লাকীর জন্মদিনে বিশেষ উপহার নিয়ে আসছে ব্যান্ড ‘দলছুট’। লাকীর বিখ্যাত গান ‘এই নীল মনিহার’ নতুনভাবে পরিবেশন করেছে দলটি। শনিবার রাতে খবরটি নিশ্চিত করেন ‘দলছুট’ প্রধান বাপ্পা মজুমদার।
‘এই নীল মনিহার’-এর কথা লিখেছিলেন এস এম হেদায়েত। নিজের সুরে গানটি গেয়েছিলেন লাকী। ১৯৮৪ সালে নিজের নামে প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সে অ্যালবামেরই গান এটি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রজন্মের অনেক শিল্পী গানটি কাভার করেছেন।
লাকী আখান্দের জন্ম ঢাকায়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার কাছে সংগীতে হাতেখড়ি। সাত বছর বয়সেই শিশুশিল্পী হিসেবে বেতার ও টেলিভিশনে গান শুরু করেন। আর মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিখ্যাত এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার হন তিনি।
ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের অ্যালবামের সংগীত পরিচালনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে লাকীর। সেটা ১৯৭৫ সালের কথা। এর বছর পাঁচেক পর তিনি সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর কালজয়ী ছবি ‘ঘুড্ডি’র সংগীত পরিচালনা করেন। এতে হ্যাপীর অ্যালবাম থেকে ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গানটি ব্যবহৃত হয় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখনো সে গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘোরে।
প্রথম অ্যালবামেই সাফল্যের দেখা পান লাকী। স্বনামে প্রকাশিত অ্যালবামটিতে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘আগে যদি জানতাম’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘মামুনিয়া’, ‘এই নীল মনিহার’ ও ‘হৃদয় আমার’-এর মতো শ্রোতানন্দিত গান। ১৯৮৭ সালে হঠাৎ হ্যাপী আখান্দের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে যান লাকী। ছেড়ে দেন গানবাজনা। প্রায় এক যুগ তিনি বিরতিতে ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ফেরার পর থেকে দেশের প্রথম সারির সংগীত তারকাদের নিয়ে নিয়মিত গান করেছেন তিনি।
কেআই
