ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চ্যাটার্জি। একসময় টালিউডের প্রভাবশালী সংগঠন ‘ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র একাধিপত্য এবং এর সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
এরপর তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে এই অভিনেতার ঘনিষ্ঠতা সবার নজর কাড়ে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শাসক শিবিরের হয়ে জোরালো প্রচারণাও করতে দেখা গেছে তাকে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদল হতেই যেন পালটে যান এই নায়ক। সম্প্রতি তিনি জানান, নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সে সময় কাজ না পাওয়ার আশঙ্কার কারণেই মূলত বাধ্য হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি।
পরমব্রতের এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশের দাবি— পরমব্রত আসলে নিজের ছেলের নাম ব্যবহার করে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলছেন। এবার সেই তীব্র ট্রোল ও সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নিজের এমন অবস্থানের বিষয়ে কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে পরমব্রত বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী ছিলাম সেই কারণেই কার্ড প্লে করেছি। আবারও বলছি, আমি যখন ভুক্তভোগী ছিলাম, তখন তো একবারের জন্যও কেউ ফোন করে জানতে চায়নি আমি কেমন আছি, কিংবা কীভাবে আমার সংসার চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা আছেন, তারা আসলে অর্ধসত্যের ওপর ভিত্তি করে একটা জাজমেন্টে পৌঁছান। তাই তাদের প্রতি আমার কোনো প্রত্যাশাও নেই।’
টালিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সমীকরণ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তো আমার আগে ভিডিও তৈরি করে, ক্ষমা চেয়ে এবং আপস করে ফেডারেশন ও স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলেছিলেন। এভাবে তারা নিজেদের কাজ পাওয়ার রাস্তাও পাকা করে ফেলেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কি তখন আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন যে আমার দিন কীভাবে চলছে, কিংবা কাজ না পেয়ে আমি কেমন আছি? ফলে এখনকার পরিস্থিতি দেখে কারও যদি একে ভিক্টিম কার্ড মনে হয়, তবে সত্যিই আমার নতুন করে আর কিছু বলার নেই।’
এমআইকে
