ফুটবল বিশ্বকাপ আর শাকিরা- এই দুই নাম যেন সময়ের সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে গেছে। ২০০৬ সালে বার্লিনে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০ সালে ‘ওয়াকা ওয়াকা’, ২০১৪ সালে ‘লা লা লা’ আর ২০২৬ সালে ‘দাই দাই’; দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত থেকেও যেন বয়সকে থামিয়ে রেখেছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শাকিরার ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের ছবি পাশাপাশি জুড়ে পোস্ট করেছেন অনেক নেটিজেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় একটাই, ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও শাকিরার চেহারা, ফিটনেস ও মঞ্চ কাঁপানো উপস্থিতি যেন একই রকম রয়ে গেছে।
এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘শাকিরা আর বিশ্বকাপ, যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ৪৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে স্টেজ মাতাচ্ছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘২০০৬ থেকে ২০২৬—দুই দশকের সুরের জাদু। বয়স যেন তার কাছে শুধুই একটি সংখ্যা।’
নেটিজেনদের এই বিস্ময়ের পেছনে রয়েছে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। বয়স পঞ্চাশেও কীভাবে এতটা ফিট, প্রাণবন্ত থাকেন শাকিরা? ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও শাকিরার দীর্ঘদিনের কোরিওগ্রাফার অ্যানা কাইসার সেই রহস্য তুলে ধরেন।

পুষ্টিকর খাবারে দিন শুরু
অ্যানা কাইসার জানান, শাকিরার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার। সাধারণত দিনের শুরুতে তিনি খান অমলেট ও সবুজ শাকসবজি। দুপুরে প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ এবং রাতে সেদ্ধ সবজি ও হালকা, সহজপাচ্য প্রোটিন গ্রহণ করেন।
শুধু মূল খাবারই নয়, দিনের মাঝখানে ক্ষুধা লাগলেও তিনি জাঙ্ক ফুডের দিকে ঝোঁকেন না। ফল, গরম স্যুপ, সবজি, প্রোটিন স্মুদি বা প্রোটিন শেকই থাকে তার পছন্দের তালিকায়।

প্রোটিনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
শাকিরার খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রোটিন। প্রশিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীরচর্চার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি প্রোটিন গ্রহণ করেন। এতে শরীরের চর্বি কমাতে এবং পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য হয়।
এ ছাড়া প্রতিটি প্রধান খাবারের সঙ্গেই তিনি প্রোটিন রাখেন। দিনের প্রথম ভাগে তুলনামূলক ভারী প্রাণিজ প্রোটিন খেলেও রাতের দিকে বেছে নেন হালকা ও সহজপাচ্য প্রোটিন।

প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর খান
অ্যানা কাইসারের মতে, শাকিরার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে বড় রহস্য এটি। তিনি একসঙ্গে অনেক খাবার খান না। বরং প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করেন। এতে শরীরের শক্তি স্থিতিশীল থাকে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে দীর্ঘ সময়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ কমে যায়।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, শুধু খাদ্যাভাসই নয় পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও শাকিরার ফিটনেসের বড় ভিত্তি। হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (HIIT), ড্যান্স-কার্ডিও এবং তার বিখ্যাত বেলি ড্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই তার রুটিনের অংশ। বেলি ড্যান্স কোর মাসলকে শক্তিশালী করে, শরীরের ভারসাম্য বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় পারফর্ম করার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্যামিনা তৈরি করে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো দেখে অনেকেই বলছেন, ২০০৬ সালের শাকিরা আর ২০২৬ সালের শাকিরার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর সেই ‘এভারগ্রিন’ উপস্থিতির রহস্য লুকিয়ে আছে তার দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনেই।
ডিএ

