বিজ্ঞাপন

গাওয়ার সময় জানতাম না গানটি কোক স্টুডিওতে যাবে: নুসরাত

গাওয়ার সময় জানতাম না গানটি কোক স্টুডিওতে যাবে: নুসরাত

কোক স্টুডিও বাংলার মতো প্ল্যাটফর্ম দিয়ে অভিষেক, স্বপ্নের পথে যে স্বপ্নের মতই পা রাখলেন নুসরাত জাহান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুম ঝুম’ গানে মাহতিম শাকিবের সঙ্গে তার গায়কীও পেয়েছে প্রশংসা। এই গানে যুক্ত হওয়া এবং নুসরাতের সুরেলা পথচলার গল্প তুলে এনেছেন দ্বীন অর্ণব

ঢাকা পোস্ট: কোক স্টুডিও বাংলায় আপনার গান এলো। কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন? পরিবার, বন্ধুরা কী বলছে?

নুসরাত: প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি; শুধু বাংলাদেশ থেকেই না, বাইরের দেশ থেকেও মানুষ শুনছে। এটা খুব সারিয়াল লাগছে। আমার পরিবার আর বন্ধুরাও অনেক খুশি, প্রাউড; আমাকে কনগ্র্যাচুলেট করছে। ছোটবেলা থেকে গানের মধ্যে বড় হয়েছি তো; তাই এতো বড় একটা প্ল্যাটফর্মে আসতে পারা ডেফিনেটলি আমার জন্য খুব স্পেশাল।

ঢাকা পোস্ট: কিভাবে যুক্ত হলেন এই গানে? নেপথ্যের গল্পটা শুনতে চাই...

নুসরাত: এর পেছনে একটা স্টোরি আছে। শুভেন্দু ভাই একদিন কল দিয়ে বললেন, একটা গানের জন্য ডেমো ভয়েস দিতে হবে। আমরা তখন খুলনায়। জানতাম না, আসলে এটা কোক স্টুডিও বাংলার প্রজেক্ট। পরে ঢাকায় এসে ভয়েস দিলাম। তখনও শিওর ছিলাম না, গানটা হবে কিনা। ইভেন আমার ভয়েস সিলেক্ট হবে কিনা, তাও জানতাম না। শেষমেশ যখন চূড়ান্ত হলো, অনেক এক্সাইটেড হয়েছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।

'রুম ঝুম' গানে নুসরাত জাহান

ঢাকা পোস্ট: বাংলাদেশ তো বটেই, ভারত, পাকিস্তান এমনকি সুদূর তুরস্ক পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে আপনার কণ্ঠ; পাওয়া যাচ্ছে প্রশংসা। অনুভূতি কী?

নুসরাত: এখনো একটু অবাস্তব লাগে। কখনো ভাবিনি এত জায়গার মানুষ কানেক্ট করবে। মিউজিক আসলে ল্যাঙ্গুয়েজ ছাড়াও মানুষকে কানেক্ট করতে পারে, এই ‘রুমঝুম’ গানের মাধ্যমে সেটা অনুভব করতে পারছি। এই ভালোবাসা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে, সামনে আরো ভালো কিছু করার।

ঢাকা পোস্ট: তুরস্কের দুই অভিজ্ঞ শিল্পী রয়েছেন গানটিতে। বাংলা গান নিয়ে তাদের ভাবনা কেমন? কী কথা হয়েছিল তাদের সাথে?

নুসরাত: তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। আমরা প্রায় একই বয়সী। তারাও অনেক ফ্রেন্ডলি ছিল। আমরা সেটে, রেকর্ডিংয়ের সময় একে অপরের সংস্কৃতি নিয়ে অনেক গল্প করেছি। নিজেদের দেশের গান শোনাতাম, খাবার নিয়েও গল্প করতাম। আর বাংলা গান নিয়ে ওদের কৌতূহল ছিল অনেক। অনেক অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। ব্যাপারটা খুব সুইট লেগেছে।

ঢাকা পোস্ট: সংগীত প্রযোজক শুভেন্দু দাস শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

নুসরাত: শুভেন্দু ভাইয়ার সাথে পরিচয়টা ছোটবেলা থেকেই। ক্লাস ওয়ানে ফার্স্ট দেখা। ভাইয়া অনেক উৎসাহ দিয়েছেন আমাকে, মিউজিক কন্টিনিউ করতে। গান তো ভালো লাগতো আগেও, কিন্তু যখন ভাইয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে মনে গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। আমার ভাইও গিটার শিখেছিল শুভ ভাইয়ার কাছেই। আমরা যখন ছোট, তখন থেকেই তিনি ঢাকায়। তো খুলনায় আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম, কখন শুভ ভাইয়া আসবেন। আমাদের একটা গ্রুপ ছিল, মিউজিক করতাম একসঙ্গে। সে সময়গুলো দারুণ ছিল।

শুভেন্দু দাস শুভ ও নুসরাত জাহান

ঢাকা পোস্ট: সংগীতে আপনার পথচলা কবে থেকে? গানে আপনার পছন্দের কোনো ধারা আছে?

নুসরাত: ছোটবেলা থেকেই। আম্মুর কাছ থেকেই প্রথম শুরু। নজরুলসংগীত আর রবীন্দ্রসংগীতেই হাতেখড়ি। গান ভালো লাগতো, শুনতাম অনেক, শুনে শুনে শিখতাম। আর কোন গানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এটা বলা একটু টাফ, কারণ সব ধরনের গান তো আমার শোনা হয়। ফ্রম পপ টু জ্যাজ, ব্লুজ, ক্লাসিক্যাল, ইস্টার্ন ক্লাসিক্যাল, ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল। অনেক দেশেরই স্টাইল এক্সপ্লোর করতে আমার ভালো লাগে।

ঢাকা পোস্ট: নিজের মৌলিক গান নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন?

নুসরাত: প্ল্যান তো আছে। সামনে নিজের অরিজিনাল মিউজিক নিয়ে কাজ করতে চাই, যেখানে আমার বৈশিষ্ট্য থাকবে। শুভেন্দু ভাইয়ার সঙ্গে মৌলিক গানের কাজ চলছে; শেষ হলেই প্রকাশের খবর জানাব।

ডিএ/কেআই