হৈচৈ, মাইকের কানফাটানো আওয়াজ আর দর্শকদের তুমুল উত্তেজনা। কাউন্টডাউন শুরু হতেই মঞ্চে আলো ঝলমলে আগমন ‘প্রিন্সেস রোজি’র। চটুল নাচের তালে তখন বুঁদ হয়ে আছে চারপাশ। তবে এই জমকালো জৌলুসের ঠিক পেছনেই আড়াল হয়ে আছে এক শিল্পীর বুকফাটা আর্তনাদ। সস্তা বিনোদনের জোয়ারে কীভাবে তলিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প, সেই রূঢ় ও নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন তরুণ নির্মাতা আসিফ ইসলাম। প্রকাশ পেয়েছে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর অফিশিয়াল ট্রেইলার।
১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের এই ট্রেইলারে এক ভিন্নধর্মী আবহের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে একদিকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দর্শকদের সস্তা বিনোদনের তুমুল চাহিদা, আর অন্যদিকে দৃশ্যমান একজন যাত্রা মাস্টারের করুণ নিয়তি। ট্রেইলারের একপর্যায়ে দেখা যায় রঙিন আলোর পেছনের অন্ধকার ঘরে গম্ভীর মুখে বসে আছেন এক প্রবীণ শিল্পী (নবাব)। তার চোখ-মুখে আছে বিষাদ আর একরাশ শূন্যতা।

সময়ের চাকা ঘুরেছে ঠিকই, কিন্তু যে দর্শকদের তিনি একসময় নিজের নিখুঁত অভিনয়ে কাঁদিয়েছিলেন, আজ তাদের চরম অবহেলা আর রুচির পরিবর্তনই তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। যাত্রাশিল্পের গৌরবময় ঐতিহ্য কীভাবে আধুনিক যুগের সস্তা চটুলতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে, ট্রেইলারে তারই এক অমোঘ ঝলক মিলেছে।
সিনেমার মুক্তিকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তা শেয়ার করেছেন পরিচালক আসিফ ইসলাম। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘যারা তাদের সৃজনশীলতা, প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসা দিয়ে এই যাত্রায় অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। একটি স্বপ্নকে চলচ্চিত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এটা আপনাদের সবার জন্য।’
রেডমার্ক ফিল্মসের ব্যানারে এবং স্ক্রিনস্কোপের সহযোগিতায় নির্মিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন লিওন, আসিফ ইসলাম ও জগন্ময় পাল। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন জান্নাতুল বাকের খান, আসিফ ইসলাম ও সাকিব ইফতেখার। এছাড়া সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন জাকির হোসেন রাজু।
আবহমান বাংলার হারিয়ে যাওয়া গল্পগাথা নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন- অরবিন্দ মজুমদার, আশনা হাবিব ভাবনা, সতেজ চৌধুরী, মাহমুদ আলম, এ কে আজাদ সেতু, জান্নাতুল বাকের খান ও সালাউদ্দিন শেখ। সিনেমাটির শব্দসজ্জা করেছেন সুকান্ত মজুমদার এবং এর নান্দনিক গ্রাফিক ডিজাইনে ছিলেন রাইয়ান রহমান।
প্রসঙ্গত, যাত্রাপালার আবহে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সিনেমার মূল চরিত্র ‘প্রিন্সেস রোজি’ হিসেবে হাজির হয়ে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। মর্যাদাপূর্ণ এই উৎসবের ‘আর্টকোর’ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিল চলচ্চিত্রটি। উৎসবের সেই লাল গালিচায় নির্মাতা আসিফ ইসলাম ও অভিনেত্রী ভাবনার উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে ঢাকাই সিনেমার এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
