বাংলাদেশের ওটিটি অঙ্গনের সম্ভাবনাময় অভিনেতাদের একজন রেজওয়ান পারভেজ। চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ভাইরাস’, ‘কালপুরুষ’ এবং সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব ফিল্ম ‘চা গরম’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের নজর কেড়েছেন খুব অল্প সময়েই। সেই ধারাবাহিকতায় ২১ জুন দিবাগত রাতে চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। কাজী আসাদ পরিচালিত এই ছবিতে ‘কুরবান’ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। নতুন এই কাজ, অভিনয়জীবনের পথচলা, সহশিল্পী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রেজওয়ান পারভেজ-এর কাছ থেকে কথা তুলে এনেছেন দ্বীন অর্ণব।
ঢাকা পোস্ট: চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘লাইফলাইন’। এই কাজটি নিয়ে দর্শকদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
রেজওয়ান: দর্শক আমাকে আগের কাজগুলোতে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একজন অভিনেতার জন্য দর্শকের সম্মানই সবচেয়ে বড় পুরস্কার। আমি নিজেকে খুব একটা প্রচারের আলোয় রাখতে চাই না। আমার বিশ্বাস, কাজ ভালো হলে দর্শক সেটাকে গ্রহণ করেন এবং ভালোবাসা দেন।
‘লাইফলাইন’-এ ‘কুরবান’ চরিত্রটি নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। আমার মনে হয় না এই চরিত্র দর্শকদের হতাশ করবে। বরং আগের কাজগুলোর মতো এটিও তাদের ভালো লাগবে। দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পেয়েছি, সেটি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা নিঃস্বার্থভাবে আমাকে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আমরা শতভাগ চেষ্টা করেছি। গল্পটি ভিন্ন ধরনের, ভালোবাসার গল্প হলেও এর উপস্থাপন আলাদা। চরিত্রটিও আলাদা, ফলে দর্শক আমাকে নতুনভাবে দেখতে পারবেন।

ঢাকা পোস্ট: বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে এটি আপনার প্রথম কাজ। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
রেজওয়ান: হ্যাঁ, এটি মিম আপুর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। এর আগে আমাদের দেখাও হয়নি। সহশিল্পী হিসেবে তিনি অসাধারণ। একজন দুর্দান্ত অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ। আমরা খুবই দুর্গম এলাকায় শুটিং করেছি। শহুরে পরিবেশে থাকা মানুষ অনেক সময় কল্পনাও করতে পারবেন না, কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়েছে। এই পুরো যাত্রায় তিনি আমাকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে বাইক রাইডের দৃশ্যগুলোতে পিলিয়ন হিসেবে তার সহযোগিতা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ঢাকা পোস্ট: ‘লাইফলাইন’-এর শুটিংয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
রেজওয়ান: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাইক চালানো। প্রায় ৭-৮ দিনের শুটিংয়ের মধ্যে ৮৫ শতাংশ সময়ই বাইক রাইডের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। অনেক ভাঙাচোরা রাস্তা, সরু পথ, এমনকি জমির আলের মতো জায়গা দিয়েও বাইক চালাতে হয়েছে। একদিকে অভিনয়, অন্যদিকে সংলাপ বলা, আবার একই সঙ্গে বাইক নিয়ন্ত্রণ করা; সব মিলিয়ে কাজটি বেশ কঠিন ছিল। অনেক সময় সামনে শিশু, পেছনে মিম আপুকে নিয়ে বাইক চালাতে হয়েছে। ফলে বিষয়টি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল।

ঢাকা পোস্ট: এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নির্মাতা কাজী আসাদ কীভাবে সহায়তা করেছেন?
রেজওয়ান: কাজী আসাদ ভাইয়ের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। তিনি প্রতিটি দৃশ্য ধারণের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে চরিত্র, গল্প, আবেগ ও দৃশ্যের প্রেক্ষাপট বুঝিয়ে দিয়েছেন। ফলে একজন অভিনেতা হিসেবে কাজটা আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। একজন নির্মাতার জায়গা থেকে অভিনেতার যে মানসিক সহায়তা প্রয়োজন, তিনি সেটি শতভাগ দিয়েছেন। প্রতিটি দৃশ্য কীভাবে ধারণ করতে হবে, কোথায় কী অনুভূতি দরকার- সবকিছু খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
শুটিং শুরুর দুই দিন আগেই আমাকে লোকেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমি রাস্তাগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং বাইক চালানোর অনুশীলন করেছি। অনেক সময় আসাদ ভাই নিজেও পেছনে বসে আমাকে সহায়তা করেছেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি আমাকে বাইকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন।
ঢাকা পোস্ট: আপনার অভিনয়যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
রেজওয়ান: আমি দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। কুষ্টিয়ায় নাট্যচর্চা দিয়ে শুরু, পরে ঢাকায় এসে ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত কাজ শুরু করি। তবে আমি ইচ্ছে করেই অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটু সময় নিয়েছি। কারণ আমি আগে কাজ শিখতে চেয়েছি, নিজেকে প্রস্তুত করতে চেয়েছি। আমি সবসময় বড় পরিসরে নিজেকে দেখতে চেয়েছি। আমার অভিনয় শুধু বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছাক এটাই আমার স্বপ্ন, চাওয়া।

ঢাকা পোস্ট: ওটিটির বাইরে বড় পর্দায় কাজের পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে?
রেজওয়ান: আমি দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে কাজ করছি। অভিনয় আমার নেশা, আমার ভালোবাসা। একজন অভিনেতা হিসেবে অবশ্যই চাই, আমার কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। আর সিনেমা তো প্রতিটি অভিনেতারই স্বপ্ন। এর আগে ‘নকশীকাঁথার জমিন’ সিনেমায় একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, সেটিও দর্শকদের ভালো লেগেছিল। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায় আমি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবক বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এ ছাড়া প্রায় তিন বছর আগে অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমায় কাজ করেছি। সেই সিনেমার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সামনে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা।

এছাড়াও বর্তমানে কয়েকটি সিনেমা নিয়েও কথা হচ্ছে। ভালো গল্প, শক্তিশালী চরিত্র এবং ভালো নির্মাতা পেলে অবশ্যই বড় পর্দায় নিয়মিত কাজ করতে চাই।
ডিএ
