বিজ্ঞাপন

গণতন্ত্রের সংগ্রামের মধ্যে সংগীতের অভুতপূর্ব শক্তি দেখেছি : রিজভী

গণতন্ত্রের সংগ্রামের মধ্যে সংগীতের অভুতপূর্ব শক্তি দেখেছি : রিজভী

বর্ণিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দেশের গুণী শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সুরের মূর্ছনায় শেষ হলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। ২১ জুন ‘বিশ্ব সংগীত দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব মোঃ রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানে সংগীতের অপরিসীম শক্তির কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে যখন তা বিস্ফোরিত হয় তখন এর বিস্ফোরন আমরা যুগে যুগে দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, অধিকারের সংগ্রাম নানা সংগ্রামের মধ্যে সংগীতের সেই অভুতপূর্ব শক্তি আমরা দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাহান্ন কিংবা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে নব্বই এবং চব্বিশে; যে কোন গণঅভ্যুত্থানে সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা যা দেখেছি, যা শুনেছি সেটা অতুলনীয়।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। দেশের সংগীতস্রষ্টাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নতুন সমাজ গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, একটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের যে কাজ আমরা করছি, তাতে সকল সমাজের সকল মানুষ একই ছাতার তলে থাকতে চাই। নিজেদের আনন্দ দুঃখ সুখ মিলে আমরা একটি রংধনু তৈরি করতে চাই। সংস্কৃতিকে আমরা একটা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির মধ্যে আনতে চাই।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সর্বদাই সংগীতশিল্পীদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সম্ভার ও সংগীতের জগতকে শিল্পকলা একাডেমি আরো উজ্জ্বল করে তুলবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন করে আমরা ভিন্ন রকম এক উদাহরণ তৈরি করতে চাই।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব এমরান সালেহ প্রিন্স। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সদস্য সচিব জনাব জাকির হোসেন রোকন।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান পরিবেশন করেন। এরপর একে একে মঞ্চে এসে একক সংগীত পরিবেশনায় দর্শক মাতান দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুকন্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, মুন্নি কাদের, ডলি মন্ডল, নওসীন তাবাসসুম স্মরণ, পিন্টু ঘোষ, রাকা পপি, শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি ও দেবলীনা সুর।

এমআইকে