স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে রয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। এবার তাকে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।
রিমান্ড শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে জাহের আলভী বলেন, ‘আমি কাজে (অভিনয়ে) ফেরার জন্য জামিন চাই না। আমার সন্তানটা তার মাকে হারিয়েছে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার। আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি, যখন শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমার ও ইকরার রিলেশন খুব স্মুথ ছিল। সুইসাইড করার মতো কিছু ঘটেনি। সংসারে ছোটোখাটো মনোমালিন্য হয়। আমি মিডিয়ায় কাজ করি, এখানে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী যেমন আছে, হেটার্সও আছে। তারা একটা এআই জেনারেটেড মেহেদীওয়ালা ছবি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করেছে। সেই মেহেদীওয়ালা আসল ছবিটা আমার আইনজীবীর কাছে আছে।’
অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে নেপালে গিয়ে জন্মদিন উদযাপনের প্রসঙ্গে আলভী বলেন, ‘আমি নাকি নায়িকা নিয়ে নেপালে গেছি। অথচ আমি ৬টা নাটকের শুটিংয়ে প্রডাকশনের সঙ্গে গিয়েছি; এটা আমার কাজ। সেখানে প্রডাকশনের সবাই ছিল, শুধু তিথি না।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন জাহের আলভী। ওইদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আজ দুপুর ২টা পনেরো মিনিটের দিকে তাকে হাজতখানা থেকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। পরে আড়াইটায় শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এ মামলায় কোনো মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব যেন না থাকে। এখানে তাকে (আলভী) শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ন্যায় বিচার হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
আইনজীবী আরো বলেন, ‘তিনি দেশে এসে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কোর্টে আত্মসমর্পণ করেছেন।’ তখন বিচারক এ আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাকে হাইকোর্টই আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন’। আইনজীবী তখন আদালতকে ইকরার দেওয়া একটি হলফনামা পরে শোনান। হলফনামায় ইকরাকে তার বাবা-মা জোর করে আরেকটি বিয়ে দেন বলে লেখা রয়েছে, জানান আইনজীবী।
এসময় আলভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্যে করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অন্য নারীর সাথে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, সনাক্তকরন ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনার রাতেই মামলা করেন ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
এনআর/কেআই
