বিজ্ঞাপন

ভক্তদের মতো আমিও গানটা নিয়ে খুব এক্সাইটেড : মিলা

ভক্তদের মতো আমিও গানটা নিয়ে খুব এক্সাইটেড : মিলা

দীর্ঘদিন পর ফের একসঙ্গে ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে মিলা ইসলাম। বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় বাড়তি হাওয়া যোগ করতে এসেছে তাদের গান 'কাণ্ডারি চল'। এ প্রসঙ্গের হাত ধরে মিলার বর্তমান ব্যস্ততা আর ফেলে আসা দিনের উঠোনে ঘুরে এসেছেন ইব্রাহীম জাহিদ। 

ঢাকা পোস্ট: কেমন আছেন? কেমন যাচ্ছে দিনকাল?

মিলা ইসলাম: ভালো আছি, দিনকাল বেশ ভালো যাচ্ছে।

ঢাকা পোস্ট: ইদানীং গান নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?

মিলা ইসলাম: ব্যস্ততা তো চলছেই। এই যে ‘কাণ্ডারি চল’ গানটা রিলিজ হলো, এটা নিয়েই এখন ব্যস্ততা। এছাড়া সামনে বেশ কিছু লাইভ কনসার্ট ও শো রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ চলছে।

ঢাকা পোস্ট: দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে কাজ করলেন। অনেক বছর পর তাঁর সঙ্গে স্টুডিও শেয়ার করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

মিলা ইসলাম: ফুয়াদ ভাইয়ের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা ডেফিনেটলি সবসময়ই ভালো। এর আগেও তো সবসময় উনার সাথেই কাজ করেছি, আমার অলমোস্ট সব গানই তো ওনার সাথে করা। উনি সবসময়ই আমার জন্য পারফেক্ট। আমার ভয়েসের বিষয়গুলো, রেঞ্জগুলো উনি যেভাবে বুঝতে পারেন—সেই অনুযায়ী উনি সবসময় আমার জন্য গান চুজ করেন। অবভিয়াসলি অনেকদিন পর একসাথে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।

মিলা ইসলাম

ঢাকা পোস্ট: গানটি বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এই ফুটবল উন্মাদনার অংশ হতে পেরে কেমন লাগছে?

মিলা ইসলাম: দারুণ লাগছে! আসলে গানটি গতকাল রিলিজ হওয়ার কথা থাকলেও একদিন পিছিয়ে আজ রিলিজ হয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকেই ফ্যানদের মধ্যে যে লেভেলের উত্তেজনা আর অধীর আগ্রহ দেখলাম, তা সত্যিই চমৎকার। ভক্তদের একটা আলাদা গ্রুপই আছে, যারা অনেকদিন ধরে ওয়েট করছিল আমাদের গানের জন্য। আমরা তো খুব বেশি কমার্শিয়াল না, একটু চুজি কাজ করি। তাই এত বছর পর গানটা আসায় ভক্তদের এই ভালোবাসা আর রেসপন্স দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে। একজন আর্টিস্টের জন্য এটাই তো সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট।

ঢাকা পোস্ট: এই গানে আপনার সঙ্গে পান্থ কানাই, ব্ল্যাক জ্যাং থেকে শুরু করে নাইজেরিয়ান শিল্পী ওলি বয়ও আছেন। দেশি-বিদেশি এত বৈচিত্র্যময় একঝাঁক প্রতিভার সঙ্গে এই কোলাবোরেশনের অভিজ্ঞতা কেমন?

মিলা ইসলাম: খুব চমৎকার! পান্থ ভাইয়ের সাথে আমি এর আগেও ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ (গানবাংলার প্রজেক্ট)-এ একসঙ্গে গান করেছি। এটা ওনার সাথে আমার সেকেন্ড কাজ। ওনার এনার্জি সবসময় সুপার, মিউজিক ভিডিওতে আমরা একসাথে পারফর্ম করেছি। আর ব্ল্যাক জ্যাংয়ের সাথে তো আমার গত বছরও ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’ গানটা বের হয়েছিল, এর আগেও বেশ কিছু কাজ হয়েছে। হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অব মাইন। আর নাইজেরিয়ান শিল্পী ওলি বয়, সেও খুব ভালো করছে। ও আমাদের দেশেই থাকে এবং এখানেই মিউজিক করছে। অলওভার সবাই খুব ভালো করেছে। গানটি যদিও রিলিজ করতে আমাদের একটু দেরি হয়েছে, তাও একটু আগে ফুল মিউজিক ভিডিওটা দেখলাম, খুব ভালো লেগেছে।

মিলা ইসলাম

ঢাকা পোস্ট: সামনেই তো নকআউট পর্বের উত্তেজনা। ব্যক্তিগতভাবে ফুটবল নিয়ে আপনার উন্মাদনা কেমন? কোনো প্রিয় দল আছে?

মিলা ইসলাম: আমার প্রিয় দল তো অবভিয়াসলি আর্জেন্টিনা! এখন নকআউট পর্ব শুরু হচ্ছে, উত্তেজনা তো আছেই। যেহেতু আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার, তাই আমি তো সবসময় এক্সপেক্ট করব, আর্জেন্টিনা এবারও কাপটা নেবে। এটাই আশা রাখি।

ঢাকা পোস্ট: স্টুডিওর বাইরে স্টেজে তো আপনার দারুণ জনপ্রিয়তা। লাইভ কনসার্টের ব্যস্ততা কেমন এখন? 

মিলা ইসলাম: আমি তো বেসিক্যালি প্লেব্যাকের চেয়ে সবসময় স্টেজেই বেশি সরব। স্টেজই আমার বেসিক জায়গা এবং লাইভ শো করতে সবচেয়ে পছন্দ করি। সামনে ইনশাল্লাহ আরও বেশ কিছু কনসার্ট আছে। আর এই যে নতুন গানটা রিলিজ হলো, এটা দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রমোট করার একটা প্ল্যান আছে। ‘বে এম্পোরিয়াম’ হয়তো এই গানের ওপর বেজ করে বিভিন্ন জেলায় কনসার্ট করবে; সেখানে ফুয়াদ ভাই এবং আমি একসাথে পারফর্ম করব। ওগুলো নিয়েই এখন প্ল্যানিং চলছে।

ঢাকা পোস্ট: চলচ্চিত্রে নতুন কোনো গান করছেন? 

মিলা ইসলাম: এই তো লাস্ট ঈদেই  দুটি ছবিতে আমার গান বের হলো।  ‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় ‘ও দরদী কি মাছ’ এবং ‘মালিক’-এ রয়েছে ‘গুলগুলি পিঠা’ নামের একটা আইটেম গান। গানগুলোর খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছি। আর সামনে নতুন সিনেমায় কাজ করলে ইনশাল্লাহ সবাই জেনে যাবেন। সিনেমা তো এখন মূলত ঈদের টাইমগুলোতে জমজমাটভাবে রিলিজ হয়। সামনে ইনশাল্লাহ আস্তে আস্তে আরও কাজ হবে। তবে আমি তো খুব বেশি সংখ্যায় কাজ করি না, একটু বেছে বেছে কাজ করি। যেখানে কোয়ালিটি থাকবে, সেখানেই কাজ করতে ভালো লাগে।

মিলা ইসলাম 

ঢাকা পোস্ট: নারী শিল্পীদের জনপ্রিয়তার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন একসময়। দেশজুড়ে আপনার অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা ছিল। সেসময়ের কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?

মিলা ইসলাম: যখন থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছি, তখন থেকেই আমি পজিটিভ ছিলাম এবং এখনও আমি পজিটিভ। আমি সবসময়ই চেয়েছি মানুষের পছন্দের মিলা আপু হয়ে থাকতে। মিউজিক আমাদের আনন্দের জায়গা। আমি তো খুব একটা স্যাড সং গাই না, সবসময় হ্যাপি গানই গাই। মানুষের লাইফে কত রকমের আপস অ্যান্ড ডাউন বা দুঃখ থাকে। কিন্তু এই মিউজিকের জায়গায় আমি খুব হ্যাপি থাকি এবং বাকি সবকিছু ভুলে যাই। মিউজিক সবসময়ই আমার জীবনের সবচেয়ে প্রায়োরিটি দেওয়ার মতো সুখের একটা জায়গা।

ঢাকা পোস্ট: কখনো নিজেকে ‘আন্ডাররেটেড’ মনে হয়? মানে, এই সময়ে এসে আরো ভালো অবস্থানে থাকার কথা ছিল, এমন কোনো আক্ষেপ হয়?

মিলা ইসলাম: আল্লাহর রহমতে আমার কোনো আফসোসের জায়গা নেই। আমাদের জেনারেশনে আমরা যতটুকু কাজ করে এসেছি, এরপর যদি আমি জীবনে আর কোনো গান নাও গাই, তাহলেও সমস্যা নেই। ‘মিলা’ নামটা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে এবং সংগীতাঙ্গনে খোদাই হয়ে গেছে। এখন তো একটা ডিফারেন্ট জেনারেশন এসেছে। এখনকার অনেক গান হয়তো দুই-তিন দিন ট্রেন্ডিংয়ে থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু আমার ১৫ বছর বা ১২ বছর আগের গানগুলো এখনও মানুষ শুনছে, এখনও ট্রেন্ডিংয়ে আছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ, যতটুকু পেয়েছি সেটাই অনেক বড়। আক্ষেপ বা দুঃখের কোনো জায়গাই নেই, আমি অনেক হ্যাপি।

এমআইকে/কেআই