আরব চলচ্চিত্র জগতে দেখা দিয়েছে এক মহাকাব্যিক লড়াই। বড় দুটি আরব ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘আসাদ’ এবং ‘সেভেন ডগস’ স্থানীয় বক্স অফিসে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এই দুটি চলচ্চিত্রের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এক উন্মাদনা সৃষ্টি করলেও সিনেমার আয় নিয়ে লোকসানের শঙ্কা।
এই লড়াইয়ের একপক্ষে রয়েছে মার্ভেল সিরিজ ‘মুন নাইট’ খ্যাত পরিচালক মোহাম্মদ দিয়াবের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘আসাদ’। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরব টেলিভিশনের শীর্ষ তারকা মোহাম্মদ রমজান। অন্যদিকে রয়েছে সৌদি অর্থায়নে নির্মিত বিশাল বাজেটের অ্যাকশন কমেডি ‘সেভেন ডগস’।
‘ব্যাড বয়েজ’ খ্যাত পরিচালক জুটি আদিল এল আরবি ও বিলাল ফাল্লাহর পরিচালনায় এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিশরের দুই শীর্ষ তারকা করিম আবদেল আজিজ ও আহমেদ ইজ্জ। এছাড়া এই সিনেমায় মনিকা বেলুচি, সালমান খান ও মার্টিন লরেন্সের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি রয়েছে।
চলচ্চিত্র দুটির গল্প ও নির্মাণশৈলীতে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত। ‘আসাদ’ সিনেমাটি ঊনবিংশ শতাব্দীর অটোমান শাসিত মিসরের দাসপ্রথার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক ড্রামা। সিনেমাটিতে আফ্রিকার এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের দাসত্ব থেকে মুক্তি ও প্রতিশোধের লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত প্রচলিত মেলোড্রামার রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
অন্যদিকে ‘সেভেন ডগস’ হলো একটি সমসাময়িক স্পাই-থ্রিলার। যার সহ-লেখক সৌদির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ। এর প্রতিটি ফ্রেমে বিপুল অর্থের ঝলকানি দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মাদক ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক পুলিশ অফিসারের অভিযানের গল্প নিয়ে এটি নির্মিত।
বক্স অফিসের লড়াইয়ে ‘আসাদ’কে বেশ বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে ‘সেভেন ডগস’। তবে বিপুল অর্থ লগ্নি করলেও কোনো সিনেমাই হয়তো শেষ পর্যন্ত নির্মাণ খরচ তুলতে পারবে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডেডলাইনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৪৭০ থেকে ৮২০ কোটি টাকা) বাজেটের ‘সেভেন ডগস’ প্রথম তিন সপ্তাহে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে। বড় ধরনের প্রচারণা সত্ত্বেও দ্বিতীয় সপ্তাহে এর আয় এক ধাক্কায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। অপরদিকে, ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ৯৪ কোটি টাকা) বাজেটের ‘আসাদ’ মুক্তির এক মাসে মিশর, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের বাজার থেকে মাত্র ২০ লাখ ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, এই দুই সিনেমার ব্যবসায়িক মন্দা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান চলচ্চিত্র বাজারের সামনে বড় কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের শক্তিশালী অর্থবল এবং আগ্রাসী বিপণন কৌশল সত্ত্বেও দর্শক খরা প্রমাণ করে, শুধু বড় বাজেট বা গ্ল্যামার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের মন জয় করা সম্ভব নয়। ছবির সার্থকতা কেবল জমকালো দৃশ্যায়নে নয়, বরং গল্প ও কল্পনাশক্তির গভীরতার ওপরই নির্ভর করে।
ডিএ
