বিজ্ঞাপন

মুস্তাফা মনোয়ারকে নিয়ে ম হামিদ

‘প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তার ছাত্র’

‘প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তার ছাত্র’

গতকাল অনন্তলোকে পাড়ি জমিয়েছেন নন্দিত চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। আজ সকালে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে। সেখানে উপস্থিত হয়ে শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, নাট্যকার ম হামিদ, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজসহ সংস্কৃতির নানা অঙ্গনের অনেকে।

জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিশিষ্টজনেরা। নাট্যকার ম হামিদ জানান, তার টেলিভিশন ক্যারিয়ারে আসার মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। ম হামিদ বলেন, “তিনি আমার পেশাটাও বদলে দিয়েছিলেন। আমি বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের চাকরি পেয়েছিলাম। উনি আমাকে বললেন ‘ওটা তোমার জায়গা না, তুমি টেলিভিশনে আসো।’ তার কথাতেই আমি টেলিভিশনে আসি এবং এই পেশাটাকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেছি।”

বিটিভির ইতিহাস ও সমৃদ্ধ পথচলার পেছনে মুস্তাফা মনোয়ারের ভূমিকা অসামান্য। এ বিষয়ে ম হামিদ বলেন, ‘এখানকার (বিটিভি) কর্মী-কর্মকর্তা যারা আছেন, প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তার ছাত্র। বিটিভির সামগ্রিক চিত্রে তার ভূমিকা অসাধারণ।’

বিটিভি প্রাঙ্গণে মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা

ম হামিদ আরো বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার কার গুরু ছিলেন না, এটা খুঁজে বের করা মুশকিল। বিশেষ করে টেলিভিশন ও শিল্প সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, উনি সবারই শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড। তার সঙ্গে যেমন জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যেত, তেমনি আড্ডার মধ্যেও শেখার অনেক কিছু থাকত।’

জানাজা শেষে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্যার ছিলেন আমাদের প্রেরণার উৎস। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তার ছোঁয়া নেই। তিনি শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশনেরই মহাপরিচালক ছিলেন না, শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের শিল্প-সংস্কৃতির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মুস্তফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে তাকে নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর সবশেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

কেআই

বিজ্ঞাপন