বিজ্ঞাপন

ফিফা বিশ্বকাপের পেজে আসিফ ইকবালের গান

ফিফা বিশ্বকাপের পেজে আসিফ ইকবালের গান

চলছে ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা। অংশ না নিলেও বাংলাদেশে বরাবরই এই আয়োজন নিয়ে মানুষের মনে বিরাজ করে অন্তহীন উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা পর্তুগাল-জার্মানিদের জন্য বাংলার মানুষের ভালোবাসা প্লাবনের মতো। ফিফা কর্তৃপক্ষও সে কথা জানে, ভালোভাবেই।

তাই মাঝে মাঝেই বাংলাদেশ নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয় ফিফার পেজে। যেমন এবার ফিফার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জায়গা করে নিলো একটি বাংলা গানের লাইন, ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে’। ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কাসেমিরোর প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লাইনটি।

মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময়) বিকেলে ছবিটি পোস্ট করে ফিফা। বাংলা ভাষাতেই লেখা হয় গানের লাইনটি। এটির রচয়িতা আসিফ ইকবাল। যার কলম থেকে এসেছে অনেক শ্রোতানন্দিত গান। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’ লিখেছিলেন ক্লোজআপ ওয়ান : তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার থিম সং হিসেবে। পরে এটি জনসাধারণের উৎসাহ-অনুপ্রেরণার গানে পরিণত হয়। নকীব খানের সুরে গানটি গেয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ একাধিক শিল্পী।

ফিফার পেজে নিজের গানের লাইন দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আসিফ ইকবালও। ফেসবুক বার্তায় লিখলেন, ‘গানটা লিখেছিলাম শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য। সে গান ধীরে ধীরে গানের মানুষ ছাপিয়ে হয়ে উঠতে থাকল বাংলাদেশের মানুষের গান। অথচ আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, এ গান কেউ শুনবে, কেউ গুনগুন করবে, হয়তো কারো কঠিন একটা দিনে একটু সাহস জোগাবে। এটুকুই চাওয়া ছিল। যে লাইন গান হলো, তা এতদিন মানুষের মুখে মুখে ঘুরলো। তারপর একদিন মহান জাতীয় সংসদে এ গানের লাইন উদ্ধৃত হলো। দেশের বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তে মানুষ এ গান গাইতে শুরু করলো। খেলার মাঠে, সভামঞ্চে, সংকটের দিনে, জয়ের দিনে। তারপর আমি সে লাইনটাকেই বইয়ের নাম বানালাম। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’-বিশ্বের প্রথম মানসিক দক্ষতার বই! কারণ গানে যা লিখি, জীবনেও তাই বিশ্বাস করি। বই পৌঁছে গেলো রকমারি বেস্ট সেলার হয়ে নবম এডিশনে।”

এত কিছুর পর এবার ফিফার পেজে। এটাকে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনাই মনে করছেন আসিফ। তার ভাষ্য, ‘আজ সেই একই লাইন ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পেজে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় কাসেমিরোর ছবিসহ ব্রাজিলের ফিরে আসার গান হিসেবে। বাংলায়। কোনো অনুবাদ ছাড়া। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে! একটু ভাবুন। একটা লাইন। গান থেকে সংসদে। সংসদ থেকে বইয়ের নামে। বই থেকে ফিফার পেজে। প্রতিটা ধাপে আমি শুধু দিয়ে গেছি। কোনোদিন ভাবিনি কোথায় কী পৌঁছাবে। আবেগের ভাষার কোনো অনুবাদ লাগে না। আর যেটা হৃদয় থেকে লেখা, সেটার যাত্রা কেউ থামাতে পারে না।’

সবশেষে আসিফ লিখেছেন, ‘এই অর্জন আমার না। এ অর্জন বাংলাদেশের। বাংলা ভাষার। চট্টগ্রামের একটা ছেলে একদিন একটা লাইন লিখেছিল। সে লাইন আজ বিশ্বমঞ্চে। কারণ ছোট দেশের ছোট মানুষের কথাও একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছায়। শুধু লক্ষ্য থাকতে হয় অটুট।’

কেআই