বিজ্ঞাপন

দিলজিতের স্বপ্নজয়ের গল্প

৫ হাজারেও গাইতেন, এখন স্টেডিয়ামে করেন সোল্ডআউট শো!

৫ হাজারেও গাইতেন, এখন স্টেডিয়ামে করেন সোল্ডআউট শো!

পাঞ্জাবি গানের ইতিহাস নতুনভাবে রচনা করছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। জনপ্রিয়তায় ছাড়িয়ে যাচ্ছেন যেন নিজেকেই। হাল আমলে তার মতো বড় পরিসরের কনসার্ট উপমহাদেশের অন্য কোনো শিল্পীকেই করতে দেখা যায় না। নিজ দেশ ভারতের বাইরে দূর আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় তিনি কনসার্ট করেন, তাতেও ভর্তি হয়ে যায় স্টেডিয়াম! তাও আবার প্রত্যেকটি টিকিট শো।

গানের বাইরে অভিনয়েও দিলজিতের সাফল্য ঈর্ষণীয়। পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি বলিউডেও তার জনপ্রিয়তা কম নয়। দিলজিতের এত এত সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রামের গল্প। অন্য অনেকের মতো তারও ছোটবেলা কেটেছে চরম দারিদ্র্যে, অনটনের মধ্যে। এমনকি অসুখ হলে চিকিৎসা করানোর অবস্থাও ছিল না পরিবারের।

পরিবারের অবস্থা উন্নতির জন্য আটঘাট বেঁধে কাজে নেমে পড়েন দিলজিত। বিয়ে থেকে জন্মদিন, যে যেরকম অনুষ্ঠানেই ডাকত, গাইতে চলে যেতেন। ৫ হাজার রুপি থেকে ১০ কিংবা ১৫ হাজার রুপিতে শো করেছেন অহরহ।

দিলজিতের কনসার্টে জনসমুদ্র

২০০২ সালে নিজের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করেন দিলজিৎ। তখনই বুঝতে পারেন, আয়ের মূল উৎস লাইভ পারফর্মেন্স। তাই তিনি গাইতে শুরু করেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। দিলজিৎ বলেন, ‘তখন আমি কাউকেই না বলিনি। কেউ ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার রুপি অফার করলেও রাজি হয়ে যেতাম। কাউকে ফিরিয়ে দিইনি। দিন-রাত যেখানেই ডাক এসেছে, সেখানেই গিয়েছি। এর পেছনে একটাই কারণ ছিল—শৈশবের ওই দারিদ্র্য মোচন করা।’

দিলজিতের ভাষায়, ‘ধনী ও বিখ্যাত হওয়া শুধু একটি স্বপ্ন ছিল না, বরং পরিস্থিতির কারণে সেটা আমার জন্য ছিল একান্ত প্রয়োজন।’

শৈশবের কথা স্মরণ করে দিলজিৎ বলেন, ‘আমি খুব দরিদ্র একটি পরিবার থেকে এসেছি। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান ছিল আমাদের। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর মতো টাকাও থাকত না। এমনভাবে চলতাম, যেন অসুস্থও না হই।’

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে দিলজিৎ অভিনীত নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আয়ুঙ্গা’। ইমতিয়াজ আলীর এ ছবিতে তার সঙ্গে আছেন নাসিরউদ্দিন শাহ, ভেদাং রায়না, শর্বরী প্রমুখ। ছবিটি দর্শক-সমালোচকের ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে।

‘ম্যায় ওয়াপাস আয়ুঙ্গা’ ছবির দৃশ্যে নাসিরউদ্দিন শাহ ও দিলজিৎ দোসাঞ্জ

এদিকে সংগীতে গত তিন মাস ধরে চলছে তার ‘অরা ট্যুর’। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কনসার্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। ইউরোপের দর্শকের আগ্রহের কারণে ট্যুরের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বার্লিন, ডাবলিন, প্যারিস, ভিয়েনা, মিলান, আমস্টারডাম, লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারে শো করবেন তিনি।

কেআই

বিজ্ঞাপন