বিজ্ঞাপন

হিমঘরে ৯ দিন, শিষ্যের আবেগঘন স্মৃতিতে এন্ড্রু কিশোর

হিমঘরে ৯ দিন, শিষ্যের আবেগঘন স্মৃতিতে এন্ড্রু কিশোর

নন্দিত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের প্রয়াণ দিবস আজ। ২০২০ সালের আজকের দিনে মারা গিয়েছিলেন তিনি। দিনটিতে তাকে স্মরণ করছেন কাছের মানুষ ও ভক্তরা। তেমনই একজন মোমিন বিশ্বাস। যিনি এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য হিসেবে পরিচিত।

কণ্ঠ এন্ড্রু কিশোরের মতো, গানেও এসেছেন তার হাত ধরে; মোমিনের জীবনে তাই এন্ড্রু কিশোর এক অদ্বিতীয় মানুষ। যাকে প্রতি দিন মিস করেন তিনি।

আজ প্রয়াণ দিবসে প্রিয় গুরু ও শিল্পীকে নিয়ে আবেগঘন কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন মোমিন। জানান, এন্ড্রু কিশোরের শেষ গোসলটা নিজ হাতেই করিয়েছেন তিনি। মোমিন তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘৬ জুলাই ২০২০, রাত ৮টা ১০ মিনিটে আপনাকে যে সাবান দিয়ে নিজের হাতে শেষবারের মতো গোসল করিয়েছিলাম, এখনো আমার হাত শুঁকলে সেই সাবানের ঘ্রাণ পাই! গোসল করানোর সময় আপনাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অঝোরে আমার চোখের জল আপনার গোসলের পবিত্র জলের সাথে মিশে গিয়েছিল; চোখের পলকে ৬ বছর গেল, এখনো একই অনুভূতি আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়!’

এন্ড্রু কিশোরের হিমঘরেও ৯ দিন গিয়েছিলেন মোমিন। সে প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘মেডিকেলের হিমঘরে গিয়ে ৯ দিন আপনার সাথে একা একা যত কথা বলেছি, এখনো সেই প্রতিটি কথা আপনার অদৃশ্য অস্তিত্বের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে আমার বুকে এসে কাঁটার মতো বিঁধে! চাইলেও সেই কাঁটাগুলো খুলতে পারি না। আপনার বলে যাওয়া শেষ কথাগুলো প্রতিটি সেকেন্ডে আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আপনার শূন্যতার কথা! আপনার প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বেদবাক্যের মতো সত্য হয়েছে। আপনার স্নেহ ভালোবাসার কারণে যত মানুষের হিংসার আগুনে জ্বলেছি, তার চেয়ে বেশি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এমন একটা দিন নাই, যে দিন আপনার কথা মনে পড়ে না। প্রায়ই রাতে স্বপ্নে আপনার সাথে কত গল্পের ডালা খুলে বসি, জমে থাকা গল্প আর শেষ হয় না।’

সবশেষে প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমিন লেখেন, ‘আপনি আছেন দাদা, আমার সমস্ত প্রার্থনায়, আমার শ্রদ্ধায়, আমার ভালবাসায়, আমার সবকিছু জুড়েই আছেন। শুধু দেখা হয় না, কথা হয় না; এইটুকুই পার্থক্য। আবার দেখা হবে দাদা, নিশ্চয়ই দেখা হবে! এই গ্রহের বাইরে অন্য কোথাও নিশ্চয়ই দেখা হবে।’

উল্লেখ্য, ৬ জুলাই মারা গেলেও এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ২০২০-এর ১৫ জুলাই। কন্যা এন্ড্রু সংজ্ঞা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার জন্যই অপেক্ষা করা হয়েছিল। ওই সময়টুকু শিল্পীর মরদেহ রাখা হয়েছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে।

কেআই