পিজিত মহাজন গান করেন। গান রচনা, সুর আর গায়কীর সঙ্গে স্টেজ শো, এসবেই ব্যস্ততা। সুরেলা সেই মনে মানুষের প্রতি ভালোবাসাও প্রবল। তাই কোথাও মানুষের বিপদের খবর শুনলে স্থির থাকতে পারেন না। ছুটে যান, ভালোবাসা নিয়ে, সাহায্য নিয়ে।
এবার পিজিত ছুটে গেলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে। দিন কয়েক ধরে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হাজারো মানুষ দুর্দশায় পার করছে দিন। ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না তাদের।
সেই বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য গেছেন পিজিত। সঙ্গে আরও ছয়জন। সাতজনের এই টিম গতকাল রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা করে। সেখানে গিয়ে দুপুরে ২০০ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তারা। এরপর রাতের জন্য আয়োজন করেছেন ৩০০ জনের খাবার।

পিজিত ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দুপুর ও রাতের খাবার ছাড়াও আমরা শুকনো মুড়ি, বিস্কুট, কেক, বিশুদ্ধ পানি, শিশুদের জন্য ওষুধ, স্যালাইন এসবও এনেছি। আমরা বাঁশখালির একদম প্রত্যন্ত এলাকায় (ছনুয়া মধুখালি) এসেছি। আমাদের সঙ্গে বাঁশখালির এসিল্যান্ডও রয়েছেন। এদিকে সেভাবে কেউ সাহায্য নিয়ে আসেনি। মানুষের এমন দুর্দশা দেখে খারাপও লাগছে ভীষণ। নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাহায্য করতে।’
পিজিতের একটি মানবিক সংগঠন আছে—‘মানুষ’। সেটা থেকেই উদ্যোগটা নিয়েছেন। এতে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতাও রয়েছে। তরুণ এই শিল্পী বলেন, ‘আমি গানের মানুষ, গানের সাথে আমার সংসার। প্রতিটা কনসার্ট থেকে চেষ্টা করি দেশের মানুষের কল্যাণে একটা ফান্ড রাখার জন্য। আর আমি খুব ভাগ্যবান, প্রতিবার নানা দুর্যোগে আমার গানপাগল ভাইয়েরা এসব কাজে শারীরিক শ্রম ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারাই আমার এসব কাজের অনুপ্রেরণা। আর ছোটবেলায় দেখতাম, মা লুকিয়ে লুকিয়ে অসহায়দের সাহায্য করতেন। সেই স্বভাব আমার মধ্যেও কিছুটা এসেছে। তাই চেষ্টা করি।’

এর আগে ২০২৪ সালে ফেনীতে ভয়াবহতম বন্যার সাক্ষী হয়েছিল দেশ। সে সময়ও দিনরাত এক করে অসহায়দের জন্য কাজ করেছেন পিজিত। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার থেকে শুরু করে মানুষকে খাবার-ওষুধ দেয়া সবই করেছেন এই তরুণ। এছাড়া তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্যও কাজ করেছেন তিনি।
কেআই
