৬ জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। সেখানে প্রিয় নির্মাতার সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাশেদুজ্জামান রাকিব। বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ, এর পেছনের গল্প ততই রোমাঞ্চকর, অবিশ্বাস্য। সে গল্পই ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন রাকিব। শুনেছেন কামরুল ইসলাম।
এমনও হয়! এভাবেও হয়! রাশেদুজ্জামান রাকিবের গল্পটা শোনার পর চোখ কপালে তুলে এ ভাবনাই এসেছিল, একবার নয়, বারবার। ‘হ্যাল্লো কাছের মানুষজন’ সংলাপ দিয়ে তিনি অন্তর্জালে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ‘আরএনএআর’ ইউটিউব চ্যানেল থেকে চলচ্চিত্র নিয়ে সমালোচনামূলক কনটেন্ট তৈরি করেন। হাস্যরসের মিশেলে সেসব কনটেন্ট দর্শককে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি সিনেমার মানুষদের দেয় পরামর্শ, ভালোর উৎসাহ।
সেই রাকিবের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হলো সম্প্রতি। হলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তিনি। নিয়েছেন অটোগ্রাফ, ফটোগ্রাফ। কিন্তু ব্যাপারটা এত স্পেশাল কেন? এক বাক্যে বললে, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ২০ বছরের ইচ্ছে আর সাধনা!

সময়টা ২০০৬ সাল। একদিন নোলানের ‘দ্য প্রেস্টিজ’ সিনেমাটি দেখলেন। দেখার পর সিনেমা নিয়ে রাকিবের ভাবনা আমূল বদলে গেল। টানা তিন দিন শুধু এই ছবিটাই দেখলেন তিনি। ভাবনার দরজা-জানালা একে একে খুলতে শুরু করল। রাকিবের ভাষ্য, “ছবিটা দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছে যে, সিনেমার ওয়ার্ল্ড আরো ডিফারেন্ট, যেটা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র আইডিয়া নেই। এরপর সিনেমা এমন ভালো লেগে গেল যে, এক বছরে বিশ্বের ৫ শতাধিক ছবি দেখেছি। তো ‘দ্য প্রেস্টিজ’ আসলে আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে।”
এরপর সিনেমা এমন ভালো লেগে গেল যে, এক বছরে বিশ্বের ৫ শতাধিক ছবি দেখেছি। তো ‘দ্য প্রেস্টিজ’ আসলে আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে।
এরপর থেকে বিশ্ব সিনেমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে থাকলেন। আর সবার উর্ধে নোলানের ছবিকে রীতিমতো গবেষণাবস্তু বানিয়ে ফেললেন! নোলানের প্রত্যেকটি সিনেমা, শর্টফিল্ম, সাক্ষাৎকার, স্ক্রিনপ্লে সবকিছুই খুঁটে খুঁটে দেখতে থাকলেন, যেন এটাই রাকিবের এক পাঠ্যজীবন।
সিনেমা নিয়ে তুমুল এই আগ্রহের সুবাদেই ইউটিউবিং শুরু করেন রাকিব। প্রথম চ্যানেলে দারুণ সাড়া পেলেন। কিন্তু অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর সেই চ্যানেল হারিয়ে গেল। ভেঙে পড়লেন রাকিব। তখনও ফের নোলানের একটি সংলাপ তাকে উজ্জীবিত করল, ‘হোয়াই ডু উই ফল? সো দ্যাট উই ক্যান লার্ন টু পিক আওয়ারসেল্ভস আপ’। ২০০৫ সালের ছবি ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’-এর সংলাপ এটি। এই কথা থেকেই ফের ঘুরে দাঁড়ানোর উৎসাহ পান রাকিব। চালু করেন নতুন চ্যানেল। এখন সেখানেও সফল তিনি, ২০ লাখের ওপরে তার সাবস্ক্রাইবার।

নোলানের প্রতি রাকিবের এই ভালোবাসা ক্রমশ তীব্র হতে থাকে। আর মনে ইচ্ছে জাগে, একদিন প্রিয় নির্মাতার সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু কিভাবে? সুযোগ একবার এসেছিল ২০১৯-এর দিকে। ভারতের একটি অনুষ্ঠানে নোলান আসবেন, সব পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু ঠিক সেদিনই পড়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ রিটেক পরীক্ষা। পরীক্ষা না দিলে পুরো এক বছর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কথা ভেবে যাননি রাকিব। সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল।
এর মধ্যেই রাকিবের মাথায় আসে, লন্ডনে গেলে নোলানের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। সেই ভাবনা আর উন্নত জীবনের আশায় গত বছরের অক্টোবরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমালেন রাকিব। এরপর থেকে রীতিমতো মাস্টারপ্ল্যান সাজাতে থাকেন তিনি, কিভাবে নোলানের নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’র প্রিমিয়ারে হাজির হওয়া যায়!
লন্ডনের কোন হলে নোলান ৭০ মিলিমিটার আইম্যাক্সে ছবি দেখাতে পারেন, কোথায় প্রিমিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কীভাবে টিকিট পাওয়া যায়, কোন কমিউনিটিতে থাকতে হবে—সবকিছু এক এক করে খুঁজে বের করেন রাকিব। ইউটিউবিংয়ের পাশাপাশি এটাই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রিমিয়ারে অংশ নেওয়ার মতো কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চিন্তায় ঘুম আর কাজ সবই যেন উধাও।

এর মধ্যে আবার ‘দ্য ওডিসি’র লন্ডন প্রিমিয়ারের তারিখ ও ভেন্যু সম্পর্কে কিছুই প্রকাশ করা হচ্ছিল না। কারণ সে সময় লন্ডনে উইম্বলডন চলছিল। তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা। মানসিক চাপ একটু কমাতে পরিবারের সঙ্গে ওয়েলসে ঘুরতে গেলেন রাকিব। দিন কয়েক সেখানে থেকে ফিরলেন ৪ জুলাই রাতে। ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লেন।
সকালে ঘুম ভাঙল সকাল ১০টার দিকে। ফোন হাতে নিয়েই খবর পান, ‘দ্য ওডিসি’র প্রিমিয়ার হবে লিসেস্টার স্কয়ারে, ৬ জুলাই। আর ৫ জুলাই দুপুর ১২টার মধ্যে সেখানে গিয়ে সেরা ভক্তের রিস্ট ব্যান্ড নিতে হবে। রাকিব বলেন, ‘আমি কোনোমতে তড়িঘড়ি উঠেই দৌড় দিলাম। লিসেস্টার স্কয়ারে গিয়ে তো চোখ কপালে! হাজার হাজার মানুষ। অথচ মাত্র ২৫০ জন ভক্তকে দেয়া হবে রিস্ট ব্যান্ড, যারা প্রিমিয়ারে সুযোগ পাবেন। এত মানুষের মধ্যে স্পেস পাওয়া তো ইম্পসিবল। আমি রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়লাম। ১১ টা ৫০-এর মতো বাজল, আয়োজকরা জানাল, যাদের হাতে নাম্বার আছে, কেবল তারাই থাকবে, বাকিরা যেন জায়গা ত্যাগ করে। আমি আশেপাশে অনেককে জিজ্ঞেস করলাম, কেউই নাম্বার পায়নি। তাহলে পেল কারা? পরে বুঝলাম, সকাল ৮টার দিকে এসেই অনেকে নাম্বার নিয়ে গেছে। আর এই নাম্বারটা মূলত হাতে লিখে দেওয়া হয়, যাতে কেউ কাউকে দিতেও না পারে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ছিল, এত কষ্ট করেও কিছু করতে পারলাম না!’

সময় তখন ১২টা ৪০-এর মতো। সিরিয়াল ধরে ২০০ জন প্রবেশ করল। রাকিব তখনও দাঁড়িয়ে রইলেন, অজানা কোনো এক আশায়। সে সময় তার সঙ্গে শ’তিন-চারেক মানুষ, বাকিরা হতাশ হয়ে চলে গেছে। এর মধ্যেই আয়োজকদের মধ্য থেকে একজন এসে জানাল, ২০০ থেকে ২৫০-এর মধ্যে একটি করে নাম্বার নিজেদের হাতে লিখতে, ওই নাম্বারের লোক যদি না আসে, তাহলে তার বদলে প্রিমিয়ারে যাওয়ার সুযোগ মিলবে।
রাকিব বলেন, ‘ঠিক জানি না কেন, জাস্ট র্যান্ডমলি আমি লিখলাম ২২৯। এটা মিলবে, এমনটা ভাবাই তো অসম্ভব। ওয়ান্স আ মিলিয়ন হয়তো হতে পারে। মানে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্যই। নাম্বার লেখা শেষে আমরা প্রবেশের লাইনের দিকে গেলাম। সেখানে এক এক করে ডাকতে ডাকতে যখন ২২৯ এলো, কেউ নেই! মানে, যিনি আগে এই নাম্বারটা পেয়েছিলেন, তিনি আসেননি। আমি হাত এগিয়ে দিলাম। এই মুহূর্তে আরো এক মিরাকল ঘটল। সিকিউরিটির একজন এসে বলল, ‘ইয়েস, ইউ আর ২২৯’। তিনি বারবার বলছিলেন, নম্বরটি নাকি তিনিই আমার হাতে লিখেছিলেন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। কিভাবে এটা সম্ভব!”
আমি হাত এগিয়ে দিলাম। এই মুহূর্তে আরো এক মিরাকল ঘটল। সিকিউরিটির একজন এসে বলল, ‘ইয়েস, ইউ আর ২২৯’। তিনি বারবার বলছিলেন, নম্বরটি নাকি তিনিই আমার হাতে লিখেছিলেন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম।
কথাগুলো বলছিলেন রাকিব, তার কণ্ঠের কম্পন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল ফোনে। এমন ‘অলৌকিক’ অভিজ্ঞতায় স্থির থাকার উপায়ও বা কী! কথা এগোলেন রাকিব, ‘তারপর লাইনে দাঁড়ালাম, প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হলো। আমার তবুও বারবার মনে হচ্ছিল, সামহাউ ২২৯ নম্বরের লোক আসবে, আর আমাকে চলে যেতে হবে। এই ভয়ে ভয়ে শেষ পর্যন্ত রিস্টব্যান্ড পেয়েই গেলাম। কিছু ইনফরমেশন, আর নিয়মকানুন বলে দেওয়া হলো। ৬ তারিখ বিকাল ৩টায় যেতে হবে। রিস্টব্যান্ড পাওয়ার পরও আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না, ব্যাপারটা সত্যি কিনা। এর মধ্যে আবার আরেকটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। লিসেস্টার স্কয়ারের বাঙালি রেস্টুরেন্টের লোকজনের সঙ্গে পরিচয় আছে। তাদের কাছে গেলাম, খাওয়াদাওয়া করলাম। এরপর এক মুহূর্তের জন্য রিস্টব্যান্ডটা খুলতে চাইলাম, হঠাৎ কোনো এক দৈব বাধায় খুললাম না। তাৎক্ষণিক রুলসের কাগজটা পড়লাম, সেখানে লেখা রয়েছে, ২৪ ঘণ্টাই এটা পরে থাকতে হবে এবং এটা যদি একটু ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আর গ্রহণ করা হবে না। নিয়মের কাগজটা পড়ে আমি জাস্ট থ হয়ে ছিলাম! অল্পের জন্য সব কষ্ট মাটি হয়ে যেতো।’
প্রিমিয়ারের দিন সকালেই ঘুম থেকে উঠলেন রাকিব। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন তার। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলেন। সঙ্গে যাবেন স্ত্রীও। যাত্রায় নিজের সঙ্গে একটি বক্স নিলেন রাকিব, যেখানে ক্রিস্টোফার নোলানের সবগুলো ছবির স্ক্রিনপ্লে রয়েছে। এর মধ্যে ‘ওপেনহাইমার’-এর অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লেও আছে! রাকিব বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, কিভাবে আমার স্ত্রী এই স্ক্রিনপ্লে ম্যানেজ করেছে। যতদূর শুনেছি, কোনো নিলাম থেকে অনেক টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছিল। ওই স্ক্রিনপ্লেতে নোলানের সিগনেচারও আছে।’

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘণ্টাখানেকের পথ পাড়ি দিয়ে লিসেস্টার স্কয়ারে হাজির রাকিব। লাইনে দাঁড়ালেন, সবাই তার হাতের জিনিসপত্র দেখে অবাক হচ্ছিল। জিজ্ঞেস করছিল, কী এসব। অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লের কথা শুনে সবার চোখ কপালে। কিভাবে সম্ভব! আলাপে আলাপে রাকিবের ইউটিউব চ্যানেলের খবরও শুনল অনেকে, নোলানের প্রতি তার পাগলামির নানা ঘটনাও জানল। ততক্ষণে উপস্থিত সবার মধ্যে নোলান ভক্ত হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়ে গেলেন রাকিব। অনুষ্ঠান বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর, কিন্তু রাকিব ঝুঁকি নিতে চাইলেন না। সকাল ১১টায় দাঁড়িয়ে গেলেন লাইনে। এর মধ্যে একজন এসে জানাল, শুরুতে সেরা ভক্তদের ৩০-৪০ জন তারকাদের একদম কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে। আগেভাগে লাইনে দাঁড়ানোর সুবাদে সেই অ্যাকসেস পেয়ে গেলেন রাকিব।
আমি নার্ভাস, আমার হাত থেকে মার্কার পড়ে গেল। সেই মার্কার তুলে দিলেন নোলানের টিমের একজন। ওই ব্যক্তি আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘হি ইজ ইউর বিগেস্ট ফ্যান ইন দিস ওয়ার্ল্ড।’
তার ভাষ্যে একটু শোনা যাক, “অনুষ্ঠান শুরু হলো, ম্যাট ডেমন এলেন, সঙ্গে তার পাঁচ কন্যা। সবার সঙ্গে দেখা হলো, টুকটাক হাই-হ্যালো হলো। তারকারা প্রিমিয়ারের ভেন্যুতে এসে ঠিক যেখানে দাঁড়ায়, আমি একদম সেখানেই। তো একের পর এক তারকাদের সঙ্গে ছবি তুলছিলাম। আর মনে মনে তো আমার অপেক্ষা একজনের জন্যই-নোলান। ততক্ষণে আমি নোলানের টিমের কাছেও স্পেশাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছি। নোলান এলেন, চিরচেনা হাসি মুখে এগিয়ে এলেন। আমি নার্ভাস, আমার হাত থেকে মার্কার পড়ে গেল। সেই মার্কার তুলে দিলেন নোলানের টিমের একজন। ওই ব্যক্তি আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘হি ইজ ইউর বিগেস্ট ফ্যান ইন দিস ওয়ার্ল্ড।’ তিনিও হাসিমুখে আমাকে অভিবাদন দিলেন। আমি অটোগ্রাফ নিলাম, দুইটা ছবি তুললাম। এরপর তিনি এগিয়ে গেলেন ভেতরে। আমি অবশ্য জায়গা ত্যাগ করিনি তখনো, অপেক্ষা করছিলাম উনার স্ত্রী, প্রযোজক এমা থমাসের জন্য। তিনি আসার পর তার সঙ্গেও কথা বললাম, অটোগ্রাফ নিলাম। এসবের পর নোলান এবং তারকারা ভবনের দোতলায় চলে যান। সেখানে তারা কিছু খাচ্ছিলেন। মজার ব্যাপার কী জানেন? সেই দোতলা থেকেই নোলান আমাকে আবার খেয়াল করলেন, ইশারা করলেন। সেই মুহূর্তের অনুভূতি আসলে কিভাবে ব্যাখ্যা করব!”

অতঃপর নির্বাচিত ভক্তদের ‘দ্য ওডিসি’র প্রথম সাত মিনিট দেখানো হয়। রাকিব জানান, ওইটুকুতেই তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। রীতিমতো দমবন্ধ অবস্থা হয়ে গিয়েছিল তার! পুরো ছবিটি দেখার সুযোগ কেবল বিএফআই আইম্যাক্সের সদস্যদের জন্য ছিল।
প্রায় ১০ ঘণ্টার এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা শেষে বাসায় ফিরলেন রাকিব। কিন্তু বিশ্বাস তখনও যেন হচ্ছিল না। রাকিবের ভাষ্য, ‘বারবার ফোন খুলে ছবিগুলো দেখছিলাম, আসলেই কি এসব আমার সঙ্গে ঘটেছে! মনে হচ্ছিল, আমি ঘুমাব আর ঘুম থেকে উঠে দেখব এমন কিছুই হয়নি। এজন্য ছবিগুলো আমি একদিন পর পোস্ট করেছি। প্রায় ২০ বছর ধরে অপেক্ষা করছিলাম, এই মানুষটার সঙ্গে দেখা করার। অবশেষে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই ঘটনাকে আমি কোনো যুক্তিতে ব্যাখ্যা করতে পারছি না। নাম্বার মিলে যাওয়ার ব্যাপারটা তো অলৌকিক মনে হয়েছে। এখন আমার মনে হচ্ছে, জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই। কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে এখনো কেবল ওই দিনটার কথা ভাবছি। মানে আমার মাথা যেন ব্ল্যাঙ্ক হয়ে আছে। এই প্রাপ্তির অনুভূতি কাউকে আসলে বলে বোঝানো সম্ভব না।’
প্রায় ২০ বছর ধরে অপেক্ষা করছিলাম, এই মানুষটার সঙ্গে দেখা করার। অবশেষে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই ঘটনাকে আমি কোনো যুক্তিতে ব্যাখ্যা করতে পারছি না। নাম্বার মিলে যাওয়ার ব্যাপারটা তো অলৌকিক মনে হয়েছে।
গল্পের শেষে পাওলো কোয়েলহোর বিখ্যাত লাইন স্মরণ করলেন রাকিব, ‘আপনি যদি মন থেকে কিছু চান, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব আপনাকে সেটা পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করবে।’ নোলানের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাকে এমনই মনে করছেন রাকিব।
কেআই
