কদিন আগেই মুক্তি পেয়েছিল বহুল আলোচিত ‘সুপারগার্ল’। বক্স অফিসে সুবিধা করতে পারেনি ছবিটি। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের লোকসানে পড়েছে। এবার একই পথে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত লাইভ অ্যাকশন ছবি ‘মোয়ানা’। ভ্যারাইটির রিপোর্ট বলছে, এ ছবিটিও অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার লোকসানে পড়তে পারে; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা।
২০১৬ সালের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড ছবি ‘মোয়ানা’র লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণ এটি। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রথম উইকেন্ডে উত্তর আমেরিকায় ছবিটি আয় করেছে ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আর বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অথচ ‘মোয়ানা’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার, বিপণনে আরও ১২ কোটি ডলার। বাজেট ছাড়িয়েছে ৩৭ কোটি ডলার। লাভের ঘরে যেতে হলে ছবিটির মোট আয় হতে হবে অন্তত ৬০ কোটি ডলার। কিন্তু এর কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না বক্স অফিস বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময় নির্বাচন। মূল সিনেমা মুক্তির মাত্র ১০ বছর পর এবং ‘মোয়ানা ২’ মুক্তির দুই বছরের মধ্যেই রিমেকটি এসেছে। ফলে দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিয়া তৈরি হওয়ার সুযোগই হয়নি। এক্সিবিটর রিলেশনসের বিশ্লেষক জেফ বক বলেন, “দর্শক নতুন কিছু দেখতে চেয়েছিল। 'মোয়ানা ৩' দেখতে চেয়েছে, মূল সিনেমার আরেকটি রিমেক নয়।”
অবশ্য সমালোচকেরা লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’কে মূল ছবির প্রায় হুবহু পুনর্নির্মাণ বলে মন্তব্য করলেও সাধারণ দর্শকের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক ইতিবাচক। সিনেমাস্কোরে ছবিটি ‘এ-’ গ্রেড পেয়েছে। এ কারণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনির প্রত্যাশা, দর্শকের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ছবিটির বক্স অফিসে সহায়তা করতে পারে।
কিন্তু বিপত্তি বাড়ছে প্রতিযোগিতার কারণেও। এই সময়ে বক্স অফিসে চলছে ‘টয় স্টোরি ৫’, ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস’-এর মতো ছবি। আবার ১৭ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত ‘দ্য ওডিসি’। ফলে ‘মোয়ানা’র হাতে আর সুবিধা করার মতো সময় কিংবা সুযোগও মিলবে না।

যদিও সিনেমা থেকে ব্যবসা কমলেও ‘মোয়ানা’র ব্র্যান্ড ভ্যালু এখনো বেশ চড়া। ২০১৬ সাল থেকে ‘মোয়ানা’-সংশ্লিষ্ট ২ কোটি ২০ লাখের বেশি খেলনা বিক্রি হয়েছে, ছবিটির সুবাদে দারুণ প্রভাব পড়েছে ৪০টিরও বেশি ডিজনি থিম পার্কে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে অ্যানিমেটেড ‘মোয়ানা ৩’-এর কাজ চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।
কেআই
