শ্রোতারা যেন আবার অতীতেই ফিরে যেতে চাইছেন! বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মিউজিক ডেটা ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘লুমিনেট’-এর ২০২৬ সালের মিড ইয়ার প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হচ্ছে। সংস্থাটির নতুন তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ভিনাইল রেকর্ডের তুলনায় সিডি বিক্রির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই নস্টালজিক পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা, যারা এখন নব্বইয়ের দশক বা তার আগের গানে বেশি ঝুঁকছেন।
লুমিনেটের ডেটা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিডি বিক্রি ১৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৬৩ লাখ (১৬.৩ মিলিয়ন) ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। সেই তুলনায় ভিনাইল রেকর্ডের প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ধীর, মাত্র ২.৪ শতাংশ।
তবে সিডি বিক্রির এই আকস্মিক উল্লম্ফনের পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে বিটিএস-এর ‘আরিরাং’ অ্যালবাম কাজ করেছে। সে হিসাব থেকে বিটিএস এবং সামগ্রিক কে-পপ ক্যাটালগ বাদ দিলেও সিডি বিক্রির হার ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বলা হচ্ছে, অতীতের এই ফিজিক্যাল ফরম্যাটে গান শোনার প্রবণতা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি মিলেছে ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি শ্রোতাদের গান শোনার অভ্যাসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ৬০ শতাংশ জেন-জি শ্রোতা স্বীকার করেছেন, তারা নব্বইয়ের দশক বা তার আগের গানগুলো শুনতেই বেশি পছন্দ করেন। অথচ মাত্র পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০২১ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো দিনের গানের প্রতি এই নস্টালজিয়াই তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন করে সিডি কেনার আগ্রহ তৈরি করেছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও নেটিজেনদের মাঝে দেখা গেছে পুরোনো সিডি কিংবা গানের আলব্যাম সংগ্রহের হিড়িক! বিভিন্ন পোস্টে শ্রোতারা তাদের সংগ্রহে থাকা বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের পুরোনো সব সিডির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে নস্টালজিক হয়ে পড়ছেন। তাদের মন্তব্য এমন, ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের এই যুগেও তারা এখনও সিডি ক্যাসেট যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। আবার অনেক সাধারণ শ্রোতাকে অডিও ক্যাসেট ও সিডির সেই পুরোনো সোনালী দিনগুলো ফিরে পাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে নেটিজেনদের এমন প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয়, ফিজিক্যাল মিডিয়ার চিরন্তন আবেদন শ্রোতাদের মন থেকে একদম ফুরিয়ে যায়নি; তাই তারা যে অতীতে ফিরে যেতে চায়- বলাই যায়।
ডিএ
